মো. সাদমান সাকিব দিশান, জবি প্রতিনিধি ৯ মে ২০২৬ , ৭:৪২:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এর নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইস উদ্দীন-কে ব্যর্থ ও বিতর্কিত প্রমাণ করতে একটি সংগঠিত মহল সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু ছাত্রসংগঠন, অনলাইনভিত্তিক কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক ও কর্মকর্তা এ তৎপরতার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম-এর আমলে বিভিন্ন বিতর্কিত ইস্যুতে নীরব থাকা কিছু গোষ্ঠী বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানা তৎপরতা শুরু করেছে। অভিযোগ রয়েছে, পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
একাধিক সূত্র জানায়, উপাচার্যকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে নিয়মিত অনলাইন বৈঠকের মাধ্যমে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ছোটখাটো ঘটনাকে বড় আকারে উপস্থাপন করে প্রশাসনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি বলেন, “উপাচার্য রইস স্যারকে বিতর্কিত করতে কিছু গোষ্ঠী বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে। সেই অর্থ নির্দিষ্ট কিছু অনলাইন পেইজ ও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই, শিক্ষার্থীদের কাছে তাকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন পরিস্থিতি আগে দেখা যায়নি। আওয়ামী লীগের সময়েও রইস স্যার একজন নির্যাতিত শিক্ষক ছিলেন। জুলাই আন্দোলনসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন আন্দোলনে তিনি পাশে থেকেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি তার আন্তরিকতা প্রশ্নাতীত। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একটি মহল তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। পরিবর্তনের এই বাংলাদেশে এটি কখনো কাম্য নয়।”
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইস উদ্দীন বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করেই গ্রহণ করি। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এমন ঘটনা বিরল। আমার ভুল হতেও পারে। যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, তাহলে তা আমাকে দেখিয়ে দেওয়া উচিত। তবে পিছন থেকে ছুরি মারা কখনোই কাম্য নয়। কেউ যদি এমনটি করার চেষ্টা করে, তাহলে তারা ব্যক্তিগতভাবে আমাকে নয়, প্রতিষ্ঠান হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আমি সকলের প্রতি আহ্বান জানাবো, আমরা যেন ঐক্যবদ্ধ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করি।”
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল-এর যুগ্ম আহ্বায়ক শাহরিয়া বলেন, “রইস উদ্দীন স্যার সবসময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করেছেন। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম নির্যাতিত শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষকতা জীবনের শুরু থেকেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের অধিকার এবং প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করে আসছেন। তবে আওয়ামী লীগের কিছু দোসর ও গুপ্ত সংগঠন অতীতের মতো এখনও তাকে নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। মূলত তারা পূর্বের মতো বিভিন্ন অবৈধ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। আমরা বিশ্বাস করি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষার্থীরা এসব ষড়যন্ত্রমূলক কাজ কখনো সফল হতে দেবে না।”




















