সাঈদ ইবনে হানিফ, যশোর : ১০ মে ২০২৬ , ১০:৩২:০১ প্রিন্ট সংস্করণ
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতি এবং প্যানেল চেয়ারম্যানকে আর্থিক ক্ষমতা প্রদান না করায় উন্নয়নমূলক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
প্রশাসনিক জটিলতা ও আদালতের নির্দেশনা ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চিঠি চালাচালির কারণে জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে। এতে ইউনিয়নের প্রায় ২৯ লাখ ১০ হাজার টাকার উন্নয়ন কাজ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, জুন মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন না হলে বরাদ্দ ফেরত যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুঞ্জুর রশীদ স্বপনকে ২০২৫ সালের ৯ মে যশোর শহরের নিউমার্কেট এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ আটক করে। পরে বাঘারপাড়া থানার একটি নাশকতা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
এরপর একই বছরের ২৩ জুন জেলা প্রশাসক ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেন। পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়ে মুঞ্জুর রশীদ স্বপন প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। ৩০ নভেম্বর হাইকোর্ট প্রশাসক নিয়োগের আদেশ দুই মাসের জন্য স্থগিত করেন।
এই আদেশের পর জেলা প্রশাসন ১৫ ডিসেম্বর প্রশাসক নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করে এবং ১৭ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগে সুস্পষ্ট নির্দেশনা চেয়ে পত্র পাঠায়। এরপর চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট আবারও স্থগিতাদেশের মেয়াদ ছয় মাস বৃদ্ধি করেন।
পরবর্তীতে প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ সংশোধন করে “স্থিতাবস্থা” বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
এদিকে আদালতের নির্দেশনা ঘিরে প্রশাসনিক জটিলতা এখনো কাটেনি। চেয়ারম্যানকে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের মতামত চেয়ে জেলা প্রশাসন একাধিকবার চিঠি দিয়েছে। সর্বশেষ আপিল বিভাগের সংশোধিত আদেশের পর নতুন করে সুস্পষ্ট নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই জটিলতার কারণে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল বলেন, “চেয়ারম্যান না থাকায় এবং আমাকে আর্থিক ক্ষমতা না দেওয়ায় ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে উন্নয়ন সহায়তা, বিশেষ বরাদ্দ ও ভূমি হস্তান্তর কর বাবদ প্রায় ২৯ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করা না গেলে এই বরাদ্দ ফেরত যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”




















