সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা প্রতিনিধি: ১৪ মে ২০২৬ , ১১:৫৯:৫৪ প্রিন্ট সংস্করণ
নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মুগ্ধ তালুকদারকে (১১) বরফভর্তি পানির বোতল দিয়ে মাথায় আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাউসার আহমেদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মামা মারুফ খান।
বুধবার (১৪ মে) বিকেলে খালিয়াজুরী থানায় অভিযোগটি দায়ের করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহত মুগ্ধ তালুকদার মোহনগঞ্জ উপজেলার বরান্তর গ্রামের হানিফ তালুকদারের ছেলে। তার বাবা-মা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় বসবাস করায় সে নানার বাড়িতে থেকে পার্শ্ববর্তী রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সহকারী শিক্ষক কাউসার আহমেদ এলাকায় রাগী ও উগ্র স্বভাবের ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত এবং তিনি প্রায়ই শিক্ষার্থীদের মারধর করেন।
অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, গত সোমবার দুপুর ১২টার দিকে শ্রেণিকক্ষে বেঞ্চে কলমের কালি লাগানোকে কেন্দ্র করে মুগ্ধকে বেধড়ক মারধর করেন ওই শিক্ষক। একপর্যায়ে হাতে থাকা বরফ জমাট পানিভর্তি বোতল দিয়ে তার মাথায় একাধিক আঘাত করলে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়ে।
পরে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা তার মাথায় পানি ঢেলে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করেন। এ সময় বিষয়টি বাড়িতে জানালে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর মুগ্ধকে প্রথমে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
মুগ্ধর খালা মুক্তা খান জানান, বাড়ি ফেরার পর রাতে কয়েক দফা শিশুটি জ্ঞান হারায়, বমি করে এবং তার কান দিয়ে রক্ত বের হয়। পরে মঙ্গলবার সকালে তাকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং বর্তমানে ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সেখানে তার সিটি স্ক্যানসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। বর্তমানে সে মানসিকভাবেও আতঙ্কগ্রস্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক কাউসার আহমেদ বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খালিয়াজুরী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো. আজিমেল কদর বলেন, “ঘটনায় থানায় অভিযোগ হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে একজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
খালিয়াজুরী থানার ওসি নাসির উদ্দিন বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




















