প্রচ্ছদ » সারাদেশ » উদ্বোধনের আড়াই বছরেও চালু হয়নি মহেশপুরের ২০ শয্যার হাসপাতাল, স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত লাখো মানুষ
উদ্বোধনের আড়াই বছরেও চালু হয়নি মহেশপুরের ২০ শয্যার হাসপাতাল, স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত লাখো মানুষ
তাপস কুণ্ডু, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ২১ মে ২০২৬ , ৫:৫৬:০৮প্রিন্ট
সংস্করণ
উদ্বোধনের দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো চালু হয়নি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভারত সীমান্তঘেঁষা ভৈরবা এলাকায় নির্মিত ২০ শয্যার হাসপাতালটি। ফলে উপজেলার অন্তত ৫০টি গ্রামের লাখো মানুষ প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলা শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা গ্রামের সাকোরখাল এলাকায় প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর উদ্বোধন করা হয়। সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই হাসপাতালটি নির্মাণ করা হলেও এখন পর্যন্ত এর কার্যক্রম শুরু হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতালটি চালু না থাকায় ভবন ও বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম নষ্ট হতে শুরু করেছে। বিভিন্ন স্থানে পলেস্তরা খসে পড়েছে, দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কিছু যন্ত্রপাতি চুরির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন,“হাসপাতালটি চালু হলে চিকিৎসার জন্য আর দূরে যেতে হতো না। এখন অসুস্থ হলে উপজেলা বা জেলা শহরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি খরচ হচ্ছে।”
স্থানীয় নারী হোসেনে আরা বলেন,“শুনেছি হাসপাতাল নির্মাণে অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো চিকিৎসক আসতে দেখিনি। তাহলে এলাকার মানুষের কী উপকার হলো? আমরা চাই দ্রুত হাসপাতালটি চালু করা হোক।”
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন,“হাসপাতালটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামের চাহিদাপত্র ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনিক অনুমোদন পেলেই দ্রুত হাসপাতালটি চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, হাসপাতালটি চালু হলে প্রতি মাসে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষ নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন, যা সীমান্তবর্তী এলাকার চিকিৎসা সংকট অনেকাংশে কমিয়ে আনবে।