সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ৭ জুন ২০২৬ , ১১:০৫:০৯ প্রিন্ট সংস্করণ
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের জেবদিন এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত সাতক্ষীরার প্রবাসী কর্মী শফিকুল ইসলামের মরদেহ অবশেষে দেশে পৌঁছেছে। রবিবার সকাল ১১টায় তার মরদেহ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে আনা হয়।
মরদেহবাহী গাড়ি গ্রামে পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়। শেষবারের মতো তাকে একনজর দেখতে শত শত মানুষ তার বাড়িতে ভিড় জমান। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
এর আগে গত ১১ মে লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ও বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস শফিকুল ইসলামের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে ইসরায়েলি ড্রোন হামলার শিকার হয়ে তিনি নিহত হন। একই ঘটনায় সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার নাহিদুল ইসলাম নামে আরও এক বাংলাদেশি এবং একজন সিরীয় নাগরিক নিহত হন।
নিহত শফিকুল ইসলাম সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের আফসার আলী ও আজেয়া খাতুন দম্পতির ছেলে। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে তিনি জীবিকার সন্ধানে লেবাননে গিয়েছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি গভীর সংকটে পড়েছে।
শফিকুলের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্তানদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। তারা সরকারের কাছে শিশু দুটির দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।
জেলা প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. খালেদুর রহমান জানান, মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দর থেকেই নিহতের পরিবারের হাতে জরুরি দাফন ও পরিবহন ব্যয় বাবদ ৩৫ হাজার টাকার একটি চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রবাসী কল্যাণ বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী পরবর্তী দুই ধাপে নিহত শফিকুল ইসলামের পরিবারকে মোট ১৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
এদিকে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। প্রিয়জনকে শেষ বিদায় জানাতে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সেখানে উপস্থিত হয়েছেন।




















