প্রতিনিধি ২ জুলাই ২০২৬ , ১০:২২:০০ প্রিন্ট সংস্করণ
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হামলায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ভবনসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়া একটি অ্যাম্বুলেন্স স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অন্তত একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়া একটি ‘বড় ধরনের’ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সতর্ক করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কিয়েভে এই হামলা চালানো হয়।
হামলার বিষয়ে তিমুর তকাচেঙ্কো বলেন, ‘শত্রুপক্ষ আবারও ইচ্ছাকৃতভাবে আবাসিক এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং বেসামরিক মানুষকে হত্যা করছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং শিশুসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ হতাহত হয়েছে।’
হামলার সময় কিয়েভের আকাশে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ট্রেসার গোলার আলো দেখা যায়। একই সঙ্গে ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে শহরটি। দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় পর ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার এটিই প্রথম বড় পরিসরের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।
হামলার পর নিজেদের আকাশসীমার নিরাপত্তা জোরদার করতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ড। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এটি একটি ‘প্রতিরোধমূলক’ ব্যবস্থা। তবে পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোল্যান্ডের সামরিক বাহিনী জানায়, ‘এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তবর্তী অঞ্চলের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখা।’
পোল্যান্ড উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট (ন্যাটো)-এর সদস্য। জোটটির ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা ন্যাটোর সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হয়।
এদিকে নতুন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করে বুধবার ডাবলিন সফর সংক্ষিপ্ত করেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমি দেশের মানুষকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। নিজেদের, নিজেদের সন্তানদের এবং অবশ্যই পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ রাখুন।’
জেলেনস্কির দাবি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ‘বেশ কিছুদিন ধরেই ইউক্রেনের বিরুদ্ধে এই বৃহৎ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।’
অন্যদিকে, পূর্ব ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্তিয়ানতিনিভকার দিকে অগ্রসর হয়েছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে এটি দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষাব্যূহ। শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে পুরো দোনবাস অঞ্চলে আরও সহজে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ পাবে মস্কো।
তবে ইউক্রেনের সামরিক কমান্ডারদের দাবি, চলতি বছরে তারা যতটা ভূখণ্ড হারিয়েছেন, তার চেয়ে বেশি এলাকা পুনর্দখল করেছেন। পাশাপাশি রাশিয়ার সীমান্ত থেকে অধিকৃত ক্রিমিয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রসদ সরবরাহের পথও ব্যাহত করতে সক্ষম হয়েছেন।
যদিও কয়েক মাস ধরে যুদ্ধ কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে। উভয় পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে শক্ত প্রতিরক্ষা গড়ে তুলেছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে বর্তমানে দেশটির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।














