প্রতিনিধি ২ জুলাই ২০২৬ , ৩:০৭:৫১ প্রিন্ট সংস্করণ
নড়াইল সদর উপজেলায় চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে রাতভর নির্যাতনের শিকার এক মানসিক প্রতিবন্ধী যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় আট দিন পর মারা গেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত যুবককে গত আট দিন আগে সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়া এলাকার কয়েকজন চোর সন্দেহে আটক করে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাতভর নির্যাতন করেন। পরে ২৫ জুন সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নড়াইল জেলা হাসপাতালে পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
নিহত মো. আনোয়ার হোসেন (৩২) সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের বাঁশগ্রামের মৃত কাওসার মোল্যার ছেলে। পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার হোসেন মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং গত বুধবার (২৪ জুন) সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাতে বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে প্রতিবেশী বাচ্চু মিয়া সংবাদ পাঠান যে আনোয়ার গুরুতর আহত অবস্থায় নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়া এলাকার প্রসেনজিৎ, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর অপবাদ দিয়ে ধরে নিয়ে প্রসেনজিৎের বাড়ির সামনে একটি গাছের সাথে বেঁধে সারা রাত মারধর করেন। নির্যাতনের একপর্যায়ে প্রসেনজিৎ আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন এবং অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরদিন বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য বিষয়টি পুলিশকে জানালে নড়াইল সদর থানার এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ঘটনাস্থলে গিয়ে আনোয়ারকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় গত সোমবার (২৯ জুন) নিহতের বড় ভাই মো. নবীর হোসেন নড়াইল সদর থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। এজাহারভুক্ত অভিযুক্তরা হলেন- সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়া এলাকার নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, পলান বিশ্বাসের ছেলে সৌরভ বিশ্বাস, অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্ব বিশ্বাস, প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে আকাশ বিশ্বাস ও পরান বিশ্বাসের ছেলে হৃদয় বিশ্বাস।
নিহতের বড় ভাই মো. নবীর হোসেন বলেন, “আমার ছোট ভাই মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতেন। সেই সুযোগে তাকে চোর অপবাদ দিয়ে নির্মম ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। পরবর্তীতে নির্যাতনের শিকার হয়ে আমার ভাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। আমি জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এ ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন এবং তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু জানিয়েছেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


















