প্রতিনিধি ১৭ জুলাই ২০২৬ , ৮:৩৯:৩৫ প্রিন্ট সংস্করণ
কক্সবাজারের মহেশখালীর গহীন পাহাড়ে অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে কোস্ট গার্ড।এ সময় বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদিসহ ‘কুখ্যাত সন্ত্রাসী মিন্টু বাহিনী’র প্রধান ইমাম হোসেন মিন্টুকে গ্ৰেপ্তার করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, কক্সবাজারের মহেশখালী থানাধীন হোয়ানকের কেরুনতলী সংলগ্ন গহীন পাহাড়ে একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী চক্র গোপনে অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের উদ্দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চক্রটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রির পাশাপাশি জলদস্যুতা, পর্যটকদের ওপর হামলা, ডাকাতি ও অন্যান্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে স্থানীয় জনগণকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল।
তিনি আরও জানান, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আজ শুক্রবার সকাল ৬টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন শাহপরী, টেকনাফ, বাহারছড়া, ইনানী, কক্সবাজার ও মহেশখালীর সমন্বয়ে ওই এলাকায় কুখ্যাত সন্ত্রাসী মিন্টু বাহিনীর আস্তানায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন ৫টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ৯টি দেশীয় পিস্তল, ১টি বিদেশী পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড তাজা গোলা, ১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১টি দেশীয় অস্ত্র, ৩ লিটার দেশীয় মদ এবং আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদিসহ কুখ্যাত সন্ত্রাসী মিন্টু বাহিনীর প্রধান মিন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ইমাম হোসেন মিন্টু (৩৮) কক্সবাজারের মহেশখালী থানার হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুনতলীর বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কুখ্যাত ও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ‘মিন্টু বাহিনী’-এর প্রধান হিসেবে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।
উল্লেখ্য, তার বিরুদ্ধে ১৫টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তাকে আটকের মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্রের একজন অন্যতম ব্যবসায়ীকে আটক করা সম্ভব হলো যেই অস্ত্র মহেশখালীসহ দেশের পূর্ব উপকূলীয় এলাকার সাধারণ জেলে ও লবণ চাষীদের জীবন অতিষ্ঠ করে আসছে। তার এই গ্রেপ্তারের ফলে সাধারণ জেলের জন্য নিরাপদ সমুদ্র নিশ্চিত করার একটা প্রচেষ্টা সফল হলো। এই বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের আটকে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। জব্দ করা আলামত ও আটক সন্ত্রাসীর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।





















