প্রতিনিধি ২৭ জুলাই ২০২৬ , ৫:০৫:৪৮ প্রিন্ট সংস্করণ
২০০৬ বিশ্বকাপ জয়। এরপরের বিশ্বকাপ অধ্যায় ইতালির জন্য শুধু কষ্ট আর লজ্জায় ঢাকা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে যৌথভাবে দ্বিতীয় সফল দলটি সর্বশেষ অংশগ্রহণ করেছে ২০১০ আসরে। এরপর হয়ে গেছে আরও চারটি আসর, কিন্তু সেগুলোর বাছাইপর্ব পার হতে পারেনি দলটি।
আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপকে লক্ষ্য করে তাই এখন থেকে পরিকল্পনা করছে তারা। আর এ জন্যই টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে তাদের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় পাওলো মালদিনিকে।
টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে মালদিনির প্রথম কাজ ছিল একজন উচ্চমানের কোচ নিয়োগ দেওয়া। আর সেখানে শুরুতেই আনচেলত্তি আর গার্দিওলার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। সেখানে সফল না হওয়ায় ইতালির কোচ হিসেবে ২০০৬ বিশ্বকাপ জয়ী আন্দ্রে পিরলোকে নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা নেন তিনি।
ইতালির প্রধান কোচ হওয়ার একেবারে দ্বারপ্রান্তে ছিলেন পিরলো। হঠাৎ করে সেই সম্ভাবনার আকাশে জমেছে অনিশ্চয়তা মেঘ। রাশিয়ার একটি জুয়া কোম্পানির সঙ্গে তার নাম জড়িত থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নিয়োগ আটকে রেখেছে ইতালির ফুটবল ফেডারেশন। তিনি যে রাশিয়ান জুয়া কোম্পানি ফনবেটের গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর, সেটা প্রকাশ পেতেই কোচ নিয়োগ নতুন মোড় নেয়।
বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক জোরালো হতেই মুখ খুললেন পিরলো। নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি বিবৃতি দিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন দলটির সাবেক তারকা।
তিনি লিখেছেন, ‘আমার নাম ও ইতালি দলের কোচ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে যে বিতর্ক চলেছে, সেটা আমি ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে দেখেছি। প্রতিষ্ঠানগুলো, ফেডারেশন ও সংশ্লিষ্ট সব মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমি এখন পর্যন্ত চুপ থেকেছি। যাই হোক, আমার এখন মনে হচ্ছে এসব ব্যাপারে স্পষ্ট করা সমীচীন।’
পিরলো তার পোস্টে জানান, ‘আমার কর্মজীবনে, প্রথমে খেলোয়াড় হিসেবে এবং পরে কোচ হিসেবে, আমি যেসব দেশে কাজ করেছি সেখানকার আইন এবং স্বাক্ষরিত চুক্তিসমূহকে পূর্ণ সম্মান জানিয়েই সর্বদা আমার দায়িত্ব পালন করেছি।’
আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি আরও জানান, ‘সাম্প্রতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা পেশাগত সহযোগিতাটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে আমার কর্ম অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে গড়ে উঠেছিল এবং এটি সম্পূর্ণরূপে বাণিজ্যিক ও ক্রীড়াবিষয়ক।’
আমিরাতি ক্লাব দুবাই ইউনাইটেডের বর্তমান কোচ বলেন, ‘এই সহযোগিতাকে রাজনৈতিক অর্থ দেওয়ার মানে হলো আমার ওপর এমন বিশ্বাস চাপিয়ে দেওয়া যা আমি করিনি এবং ধারণ করি না।’
পোস্টে টেকনিক্যার ডিরেক্টর মালদিনির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মালদিনি ও লিওনার্দোকে আমার প্রতি সম্মান ও আস্থা রাখার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি তাদের যোগ্যতা, আন্তরিকতা ও ইতালিয়ান ফুটবলের ভালোবাসা ও নিবেদন সম্পর্কে ভালোভাবে জানি।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি দুঃখিত যে, খেলাধুলা সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্তকে দ্রুত এমন এক বিতর্কের মধ্যে টেনে আনা হয়েছে। এ কারণে আমার উপর এমন সব অর্থ ও উদ্দেশ্য আরোপ করা হয়েছে যা একেবারেই অসঙ্গত।’
নিজের পোস্টের শেষ অংশে সম্ভবত ইতালির কোচ না হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন পিরলো, ‘ইতালির জন্য ভালোবাসা চাকরির ওপর নির্ভর করে না। এটা আমার ইতিহাস ও পরিচয়ের অংশ, যা আমাকে সবসময় সঙ্গ দিয়ে যাবে।’
যদিও পিরলোর এই পোস্টে স্পষ্ট করে বলা যাবে না যে, তিনি ইতালির দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন না। তবে পরিস্থিতির কারণে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা সামলানো তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।















