নিজস্ব প্রতিবেদক ২ জুন ২০২৬ , ১১:০২:২৭ প্রিন্ট সংস্করণ
দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে একই নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে বনানী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি। এ নিয়ে সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষের কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে উঠে এসেছে। তারা দ্রুত নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
সম্প্রতি বনানী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলকে ঘিরে ফেসবুকে কয়েকজন নেতার মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন এক পোস্টে উল্লেখ করেন, “বনানী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের বয়স ১৩ বছর ৫ মাস চলিতেছে।” নেতাকর্মীদের অনেকে এই মন্তব্যকে দীর্ঘদিন ধরে কমিটি পুনর্গঠন না হওয়ার বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সেলিম সরকারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “বুড়োদের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি আর দেখতে চাই না। এবার তরুণদের নিয়ে বনানী থানা কমিটি দেওয়া হোক।”
সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মীর দাবি, দীর্ঘদিন একই নেতৃত্ব বহাল থাকায় নতুন প্রজন্মের কর্মীদের নেতৃত্বে আসার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। এতে সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলে তারা মনে করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বনানী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা বলেন, “দীর্ঘ সময় ধরে একই কমিটি বহাল থাকায় তৃণমূলের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। নতুন ও যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।”
তারা দ্রুত সম্মেলন বা সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন কমিটি ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে বনানী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান নেতৃত্বের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেকোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে নির্দিষ্ট সময় পরপর নেতৃত্বে পরিবর্তন এবং নতুনদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। এতে কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ ও সাংগঠনিক প্রতিযোগিতা বজায় থাকে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য মন্তব্যের পর বনানী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। এখন কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃত্ব এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকে তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।




















