মেহেদী হাসান, আমতলী (বরগুনা): ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ , ৫:২৪:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ
বরগুনার আমতলী উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার পাশে অবাধে বিক্রি হচ্ছে নানা ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক, রুচি ও যৌন উত্তেজনার ওষুধসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধ। সরকারি নিয়মনীতি না মেনেই কিছু অসাধু ক্যানভাসার এসব ওষুধ হরহামেশাই বিক্রি করে যাচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে তাদের দেখা মিলছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আমতলী পৌর শহরের সাপ্তাহিক বাজারসহ সপ্তাহের অন্যান্য দিন উপজেলা পরিষদ গেট থেকে পৌরসভা রোড পর্যন্ত বিভিন্ন হাটবাজার, পথে-ঘাটে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নানা ধরনের ট্যাবলেট, অ্যান্টিবায়োটিক ও যৌন উত্তেজক ওষুধ। মাইকিংয়ের মাধ্যমে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে নামহীন কোম্পানির এসব ওষুধ বিক্রি করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা।
এতে একদিকে যেমন গ্রামের সহজ-সরল মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন তারা। প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী ড্রাগ লাইসেন্স ও সাইনবোর্ড ছাড়া ওষুধ ব্যবসা পরিচালনা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। নির্দিষ্ট তাপমাত্রা, শুষ্ক ও রোদমুক্ত স্থানে ওষুধ সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও আমতলীর হাটবাজার, পথে-ঘাটে ও ফুটপাতের এসব বিক্রেতারা তা মানছেন না।
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, বাজারের বিভিন্ন স্থানে মজমা বসিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার নামে প্রকাশ্যে মাইক বাজিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক, যৌন উত্তেজক, ভিটামিন, ক্যালসিয়ামসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের ওষুধ নামে-বেনামে বিক্রি করা হচ্ছে।
আমতলী উপজেলার সিনিয়র সাংবাদিক মো. হায়াতুজ্জামান মিরাজ বলেন, “আমতলীর বিভিন্ন হাটবাজার ও পথে-ঘাটে দিনদিন এসব অবৈধ ওষুধ ব্যবসা বেড়েই চলেছে। প্রশাসনের কার্যকর কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জীবনরক্ষাকারী নিম্নমানের ওষুধ যত্রতত্র বিক্রির ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়বে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ক্রেতা বলেন, “ফার্মেসিতে যে ওষুধের দাম ২০ টাকা, সেটা এখানে ১০ টাকায় পাওয়া যায়। আমরা গ্রামের মানুষ, ওষুধ সম্পর্কে তেমন বুঝি না। কম দামে পাওয়ায় এখান থেকেই কিনি।”
অন্যদিকে ওষুধ বিক্রেতারা স্বীকার করে বলেন, “রাস্তার পাশে ওষুধ বিক্রি করার নিয়ম নেই। তবে কোম্পানির প্রচার ও পেট বাঁচানোর জন্যই এসব ওষুধ বিক্রি করি।”
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হালদার বলেন, “এসব ওষুধের কোনো অনুমোদন নেই। এতে থাকা উপাদান স্বাস্থ্যহানিকর হতে পারে, যা হার্ট, লিভার ও কিডনি রোগের কারণ হতে পারে। এসব বিক্রেতার বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, “ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”




















