প্রতিনিধি ৩১ আগস্ট ২০২৬ , ২:৪৪:৫৩ প্রিন্ট সংস্করণ
তিন বছর আগে রাজধানীর কদমতলী এলাকায় রিকশাচালক ইমন কাজীকে হত্যা মামলায় আসামি আল-আমিনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।
আজ সোমবার ঢাকার ৩য় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন চৌধুরী এই রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম (কাইয়ুম) বলেন, রায়ে আসামির যাবজ্জীবন দণ্ডের পাশাপাশি২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আর অর্থদণ্ড অনাদায়ে তার আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এ ছাড়া রায়ে আলামত নষ্ট ও মরদেহ গুমের জন্য আসামির তিন বছরের কারাদণ্ড ও সঙ্গে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেছেন আদালত। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আল-আমিনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে আবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায় , ২০২৩ সালের ৩০ মে সন্ধ্যায় ইমন অটোরিক্সা নিয়ে বের হয়ে নিখোঁজ হন। গভীর রাতে গেন্ডারিয়ার ফরাসগঞ্জ মামুর বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ইমনের বাবা মো. লিটন পরদিন কদমতলী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। নিখোঁজের চার দিন পর ৩ জুন রাতে পশ্চিম মোহাম্মদবাগ সোনামাবিয়া জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকার ঝোঁপের ভেতরের ডোবা থেকে ইমনের হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ইমনের বাবা কদমতলী থানায় মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তভার পায় ডিবি পুলিশ। মাসখানেক পর ৫ জুন বরিশাল থেকে আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে আল-আমিন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।
তদন্তে আসামির দেখানো মতে তার ভাড়া বাসা থেকে রক্তমাখা বিছানার চাদর এবং ভিকটিমের ব্যবহৃত স্মার্টফোন উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়।
চার্জশিটে বলা হয়, ধার দেওয়া পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে আল-আমিন পূর্বপরিকল্পিতভাবে ৩০ মে সন্ধ্যায় ইমনকে নিজ ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে কোকের সাথে ঘুমের ওষুধ পান করায়। পরবর্তীতে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। পরদিন দুপুরে বাজার থেকে বস্তা ও রশি কিনে মরদেহ বস্তাবন্দী করে রিকশায় করে নির্জন ডোবায় ফেলে দেয়।
মামলার তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশের ওয়ারী জোনের ইন্সপেক্টর রোকনুজ্জামান খাঁন আল-আমিনকে অভিযুক্ত করে ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরু হয়।
মামলার বিচারচলাকালে আদালত ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে। আদালত চার্জগঠনের পর ১২ কার্যদিবসে মামলার রায় ঘোষণা করলেন।





















