আন্তর্জাতিক

মুম্বাই বিমানবন্দরে ৬.৮৫ কেজি সোনা জব্দ, বাংলাদেশিসহ গ্রেপ্তার ৬

  প্রতিনিধি ৩১ আগস্ট ২০২৬ , ২:৫৫:৫০ প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের মুম্বাইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ১১ কোটি রুপি মূল্যের ৬ দশমিক ৮৫ কেজি বিদেশি সোনা জব্দ করেছে ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (ডিআরআই)। এ ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশি ট্রানজিট যাত্রী ও একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের গ্রাউন্ড স্টাফসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভারতীয় বার্তাসংস্থা হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

ডিআরআই কর্মকর্তারা রোববার জানান, সোনা পাচারের একটি চক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে শনিবার এই সোনা জব্দ করা হয়। সংস্থাটির মুম্বাই জোনাল ইউনিটের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি চালানো হয়। অভ্যন্তরীণভাবে এ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন মিডনাইট গোল্ডস্ট্রাইক’।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় একটি এয়ারলাইন্সের হয়ে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিয়োজিত এক বেসরকারি গ্রাউন্ড স্টাফকে আটক করেন ডিআরআই কর্মকর্তারা। তার শরীরে তল্লাশি চালিয়ে ২৪ ক্যারেটের সোনার গুঁড়া মোমের মধ্যে লুকানো সাতটি ক্যাপসুল উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

জিজ্ঞাসাবাদে ওই কর্মী ট্রানজিট যাত্রীদের মাধ্যমে সোনা পাচার এবং বিমানবন্দর থেকে তা বাইরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তথ্য দেন বলে জানিয়েছে ডিআরআই। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের আরও সদস্যকে শনাক্ত ও আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে আরও নয়টি ক্যাপসুল উদ্ধার করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে ১৬টি ক্যাপসুলে ৬ দশমিক ৮৫ কেজি ২৪ ক্যারেট সোনার গুঁড়া পাওয়া যায়। মোমের মধ্যে লুকানো এসব সোনার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ কোটি ৭৫ লাখ রুপি। কাস্টমস আইনের আওতায় সোনাগুলো জব্দ করা হয়েছে।

ডিআরআইয়ের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা এমন একটি সিন্ডিকেটের অংশ, যারা ট্রানজিট যাত্রীদের ব্যবহার করে মুম্বাই হয়ে সোনা পাচার করত।

তদন্তকারীদের মতে, চক্রটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, থাইল্যান্ডের ব্যাংকক ও মালদ্বীপের মালে থেকে মুম্বাই হয়ে যাতায়াতকারী ট্রানজিট যাত্রীদের ব্যবহার করত।

অভিযোগ, এসব যাত্রীর মাধ্যমে বিদেশি সোনা মুম্বাই বিমানবন্দরে আনা হতো। এরপর বিমানবন্দরের ভেতরে থাকা সহযোগীদের সহায়তায় সেগুলো বাইরে বের করে নেওয়া হতো।

এই ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক, যারা ট্রানজিট যাত্রী হিসেবে ভ্রমণ করছিলেন। অপরজন একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের গ্রাউন্ড স্টাফ।

ডিআরআই জানিয়েছে, চক্রটির কার্যক্রম, সোনার প্রকৃত উৎস এবং পাচার করা সোনা কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে আরও কেউ এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত কি না, তাও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

আরও খবর

Sponsered content