নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক মতপ্রকাশ (বগুড়া): ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৭:৩৩:১৯ প্রিন্ট সংস্করণ
বগুড়ার প্রত্যন্ত এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান থেকে উঠে এসে দু’জন নেতা জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তাদের মধ্যে মীর শাহে আলম প্রতিমন্ত্রী এবং আবদুল মহিত তালুকদার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ৩৫ বছর পর বগুড়া থেকে প্রতিমন্ত্রী পাওয়ায় জেলাবাসীর মধ্যে উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলম প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি এক লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর সাবেক এমপি আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫৪৮ ভোট।
মীর শাহে আলম ১৯৯৭ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে শিবগঞ্জ উপজেলার আটমুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ২০০৯ সালে তিনি শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এবার তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর নতুন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
সর্বশেষ ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান অর্থ প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘ ৩৫ বছর বগুড়া থেকে আর কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হয়নি। ফলে মীর শাহে আলমের প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘুচেছে।
নির্বাচনের আগে তিনি বলেছিলেন, “সংসদে গিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবো এবং শিবগঞ্জকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবো।”
বগুড়া-৩ আসনে (দুপচাঁচিয়া-আদমদীঘি) আদমদীঘি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মহিত তালুকদার ধানের শীষ প্রতীকে এক লাখ ২৭ হাজার ৪০৬ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নূর মোহাম্মদ পান এক লাখ ১১ হাজার ২৬ ভোট।
আবদুল মহিত তালুকদার ২০০১ সালে আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং দুই দফায় ১০ বছর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালে তিনি আদমদীঘি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
পারিবারিকভাবেও রাজনীতিতে তার উত্তরাধিকার রয়েছে। তার মরহুম বাবা আবদুল মজিদ তালুকদার তিন দফা এবং বড় ভাই আবদুল মোমেন তালুকদার খোকা দুই দফা সংসদ সদস্য ছিলেন। এবার তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে পরিবারের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন।
বিজয়ের পর তিনি বলেন, “এ বিজয় দুপচাঁচিয়া ও আদমদীঘি উপজেলার মানুষের। সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বাবা ও বড় ভাইয়ের আদর্শ ধরে রাখবো।”
বগুড়া-৭ আসনে (গাবতলী-শাজাহানপুর) জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও গাবতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোরশেদ মিল্টন দুই লাখ ৬২ হাজার ৫০১ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর গোলাম রব্বানী পান এক লাখ ১৫ হাজার ৫৮৪ ভোট।
এর আগে তিনি গাবতলী পৌরসভার মেয়র ও পরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি বলেন, “ভোটাররা বিপুল ভোটে আমাকে নির্বাচিত করে জিয়া পরিবারের মর্যাদা রেখেছেন। আমি সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবো।”
তৃণমূল থেকে উঠে আসা এসব নেতার প্রতি বগুড়াবাসীর প্রত্যাশা অনেক। জেলার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ দ্রুত শেষ করা, নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, বেকারত্ব দূরীকরণ, বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণ, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ দ্রুত সম্পন্ন করা, পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জেলাবাসীর বিশ্বাস, তৃণমূল রাজনীতি থেকে উঠে আসা এসব নেতা তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বগুড়ার উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবেন।




















