সারাদেশ

এসএসসি পাস ওটি ইনচার্জের ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু

  প্রতিনিধি ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১২:৫৮:২৬ প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুরের শ্রীপুরে এস এসসি পাস ওটি (অপারেশন থিয়েটার) ইনচার্জের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার মাওনা চৌরাস্তার আল রাজী হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় নিহত নবজাতকের বাবা শনিবার রাতে থানায় অভিযোগ করেন।

অভিযুক্তরা হলেন ওই হাসপাতালের পরিচালক রিপন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক জসিম উদ্দিন, ডা. মনিরুজ্জামান, কথিত ওটি ইনচার্জ কল্পনা ও প্যাথলজিষ্ট সোহেল রানা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোর ৪টার দিকে উপজেলার আজুগীর চালা গ্রামের শারমিনের প্রসব ব্যথা ওঠে। স্বজনরা তাকে দ্রুত ওই হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কথিত ওটি ইনচার্জ কাম নার্স কল্পনা ১৩ হাজার টাকার চুক্তিতে সিজারের কথা বলে ওই নারীকে হাসপাতালের তিন তলার একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তার আল্ট্রাসনোগ্রাম, রক্ত পরীক্ষা করা হয়। এক পর্যায়ে কল্পনা ও তার সহযোগীরা ওই নারীকে সেলাইনসহ ইনজেকশন দেন। পড়ে চার পাঁচজনে হাত পা ধরে টানাহেচড়া করে সন্তান প্রসব করান। এসময় কোনো ডাক্তার ছিল না। পরে ডাক্তার এসে পরীক্ষা নিরিক্ষা করে জানান নবজাতা মৃত।

নবজাতকের মা অভিযোগ করে বলেন, ‘দীর্ঘ ১০ বছর পর এটি প্রথম সন্তান। আমার পেটের সন্তান স্বাভাবিক ছিল। সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য কল্পনার সঙ্গে ১৩ হাজার টাকার চুক্তিতে হাসপাতালে ভর্তি হই। পরে কল্পনা ব্যথা বাড়ানোর জন্য সেলাইনের সঙ্গে কি যেন দুইটা ইনজেকশন দেন। কিছু সময় পর পেটের ভেতর সন্তানের নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যায়। এসময় কল্পনা ও তার সহযোগীরা চার পাঁচ জনে আমার হাত পা ধরে পেটে চাপ দিয়ে নিচের দিকে কেটে টানা হেচড়া করে সন্তান প্রসব করান। পরে শুনি আমার নবজাত মেয়ে মৃত। ওরা ডাক্তার ছাড়া ভুল চিকিৎসা দিয়ে আমার সন্তানকে মেরে ফেলেছে।’

নিহতের বাবা নাজমুল বলেন, ‘আমার সন্তানকে ভুল চিকিৎসা দিয়ে মেরেছে। কোনো ডাক্তার ছিল না। আমি অভিযুক্তদের বিচার দাবি করছি।’

এ বিষয়ে হাসপাতালের কথিত ওটি ইনচার্জ কাম নার্স কল্পনা জানান, তিনি মানবিক বা বানিজ্য বিভাগে এসএসসি পাস। রোগীকে ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই সেলাইন, ইনজেকশন দিয়েছিলেন। রোগীর অবস্থা ভালো না থাকায় তিনি দ্রুত নিজেই চিকিৎসা দেন। পরে সন্তান প্রসব করান। বাচ্চা নড়াচড়া না করায় ডাক্তারকে খবর দেন। পরে দেখেন নবজাতক মৃত।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. প্রানজল দাস বলেন, ‘কোনো ক্রিটিক্যাল রোগীর এখানে চিকিৎসা করা হয় না। হাসপাতালের ওটি ইনচার্জ কল্পনা এ রোগীর বিষয়ে ভালো জানেন। আমি বাচ্চা প্রসবের খবর পেয়ে তিন তলায় গিয়ে দেখতে পাই শিশুর মুভমেন্ট নেই। তাকে পাশের অপু চাইল্ডকেয়ার হাসপাতালে পাঠাই পরীক্ষার জন্য। সেখান থেকে জানানো হয় বাচ্চাটি মৃত।’

হাসপাতালের ম্যানেজার রাসেল মাহমুদ সব দায় অস্বীকার করে বলেন, ‘এখানে কোনো সমস্যা হয়নি। স্বাভাবিকভাবে রোগীর স্বজনরা তাকে নিয়ে গেছেন।’

শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রবিউল ইসলাম বলেন, ‘রাতে ওই নবজাতকের মরদেহ স্বজনরা থানায় নিয়ে আসেন। এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। নিহত শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দি আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

আরও খবর

Sponsered content