শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন

জবিতে দ্বৈত ফি আদায়ের অভিযোগ, কোটি টাকার হিসাব নিয়ে প্রশ্ন

  মো সাদমান সাকিব দিশান, জবি প্রতিনিধি ৭ এপ্রিল ২০২৬ , ১০:৩৩:৩৬ প্রিন্ট সংস্করণ

 জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একই খাতে দুই নামে অর্থ আদায়ের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থের হিসাব গোপনের অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে। ‘ইউনিয়ন ফি’ ও ‘কেন্দ্রীয় সংসদ ফি’—এই দুই ধরনের ফি আদায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৫ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ ও হল সংসদ আইন পাস হলে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়। তবে এর আগ থেকেই ‘বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিয়ন ফি’ নামে বছরে ৫০ টাকা করে আদায় চলছিল, যা এখনো বহাল রয়েছে। ফলে একই ধরনের খাতে দুই নামে অর্থ আদায় অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, এটি দ্বৈত অর্থ আদায়ের শামিল এবং এর মাধ্যমে তাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি এ অর্থের কোনো স্বচ্ছ হিসাব বা ব্যয়ের খাত প্রকাশ করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। সে হিসাবে শুধু ‘ইউনিয়ন ফি’ থেকেই বছরে প্রায় ৬ লাখ টাকা আদায় হয়। ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ ফি আদায় হয়ে থাকলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। তবে এই অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

এছাড়া অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় জবির শিক্ষার্থী সংসদ ফি বেশি বলেও অভিযোগ উঠেছে। যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু ফি বছরে ৬০ টাকা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাকসু ফি ৩০ টাকা, সেখানে জবিতে নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “একই খাতের জন্য দুই নামে টাকা নেওয়া অযৌক্তিক। আগে ইউনিয়ন ফি ছিল, এখন আবার কেন্দ্রীয় সংসদ ফি নেওয়া হচ্ছে—এটা বিভ্রান্তিকর।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার বলেন, “ইউনিয়ন ফি কোন খাতে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে আমিও অবগত নই। এটি আগে থেকেই নেওয়া হয়ে আসছে। ছাত্র সংসদ ফি চালুর পরও কেন এটি নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই।”

জবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব সামসুল আরেফিন বলেন, “ছাত্র সংসদ ফি নেওয়ার পর আলাদা করে ইউনিয়ন ফি নেওয়ার যৌক্তিকতা নেই।”

ছাত্র অধিকার পরিষদের জবি শাখার সভাপতি একে এম রাকিব বলেন, “ইউনিয়ন ফি সম্পর্কে আগে জানতাম না। এটি আদায়ের কোনো যুক্তি নেই।”

জকসুর ভিপি রিয়াজুল বলেন, “ছাত্র সংসদ ফি নেওয়ার পর ইউনিয়ন ফি নেওয়ার বিষয়টি অযৌক্তিক। এ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।”

এ বিষয়ে জবির রেজিস্ট্রার গিয়াসউদ্দিন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। উপাচার্য অধ্যাপক রইস উদ্দীনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে শিক্ষার্থীরা দ্রুত ‘ইউনিয়ন ফি’ আদায় বন্ধ এবং অতীতের আদায়কৃত অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আরও খবর

Sponsered content