প্রচ্ছদ

তিস্তার তীরে জীবনযুদ্ধ: আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা যেন অধরা স্বপ্ন

  গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি: ২৬ এপ্রিল ২০২৫ , ২:২০:৫৪ প্রিন্ট সংস্করণ

তিস্তা নদীর কোলে বেড়ে ওঠা চরাঞ্চলের মানুষের জীবন যেন প্রতিনিয়ত এক কঠিন পরীক্ষার নাম। যেখানে সামান্য অসুস্থতাও ডেকে আনে চরম দুর্ভোগ, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা সেখানে এক সুদূর স্বপ্ন। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সরকারের আন্তরিক উদ্যোগে চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল নির্মাণের শুভ সংবাদ এলেও, এখানকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনচিত্র করুণ বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।

বর্ষার সময় বন্যা আর গ্রীষ্মের খরতাপ এখানকার মানুষের নিত্যসঙ্গী। জীবনধারণের জন্য সংগ্রাম করা এই মানুষগুলোর কাছে স্বাস্থ্যসেবা যেন এক বিলাসিতা। সামান্য অসুস্থ হলেও তাদের ভরসা সেই পুরনো দিনের পদ্ধতি – বাঁশের তৈরি জলচৌকি কিংবা সাধারণ চেয়ার। কাঁধে করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে শহরে পৌঁছানোই যেন এক যুদ্ধ জয় করার সমান। ছবিটি সেই নির্মম বাস্তবতারই সাক্ষ্য দেয়, যেখানে এক অসুস্থ বৃদ্ধকে চেয়ারে বসিয়ে কাঁধে করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাদের ক্লান্ত মুখ আর অসহায় দৃষ্টি যেন আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য এক নীরব আকুতি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, চরাঞ্চলে ভালো কোনো হাসপাতাল না থাকায় গর্ভবতী মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি সবসময়ই বেশি থাকে। জটিল রোগ হলে দ্রুত শহরে নিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে অনেক মূল্যবান জীবন অকালেই ঝরে যায়।

এই পরিস্থিতিতে, গঙ্গাচড়ার মহিপুরে চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত এখানকার মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। চর ইচলী বাগের হাটের বাসিন্দা বল্টু মিয়া যেমনটি বলছিলেন, “হামার মতোন গরিব মানুষরে কথা ভাবিয়া সরকার যদি চীনের দেইা হাসপাতালটা নদীর পাড়োতে মহিপুরে দেয়, তাইলে আমরা উপকার পাইমু।” তাদের এই সরল চাওয়া যেন রাষ্ট্রের কাছে অবহেলিত একটি জনপদের বেঁচে থাকার আকুতি।

তবে শুধু হাসপাতাল নির্মাণই যথেষ্ট নয়। দ্রুত এর বাস্তবায়ন এবং দুর্গম চরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তিস্তার পাড়ের এই মানুষগুলোর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে এবং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার স্বপ্ন পূরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা। এই জনপদের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই হোক চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের মূল লক্ষ্য।

আব্দুল আলীম প্রামানিক /এমআই

আরও খবর

Sponsered content