সিলেট প্রতিনিধি ২৭ জুলাই ২০২৫ , ১:৩০:৩৪ প্রিন্ট সংস্করণ
সিলেট শহরজুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ভয়াবহ চিত্র! গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে নগরজুড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। কুমারগাঁও ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রের আওতাধীন ২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পাওয়ার স্টেশনটি গত ১০ দিন ধরে পুরোপুরি বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সিলেট মহানগর ও আশপাশের এলাকা।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) সূত্র জানায়, পাওয়ার স্টেশনের একটি ট্রান্সফরমার পুড়ে যাওয়ায় সেটি বন্ধ রাখা হয়েছে। যেহেতু প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আনতে হয়, তাই মেরামত ও পুনরায় চালুর সময় নির্ধারণ করাও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা অনিশ্চিত।
বিউবো সিলেট অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদির বলেন, “সিলেটে আমাদের নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যত নেই। পুরোপুরি জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভর করতে হয়। এর ওপর যুক্ত হয়েছে লো-ভোল্টেজ সমস্যা। তবে পাওয়ার স্টেশন বন্ধের প্রকৃত কারণ নিয়ে মতভেদ রয়েছে—কেউ বলছেন যান্ত্রিক ত্রুটি, কেউ বলছেন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এটি বন্ধ রাখা হয়েছে।”
একজন প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “পাওয়ার স্টেশনে বড় কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নেই, মূলত রক্ষণাবেক্ষণের কারণেই এটি বন্ধ রয়েছে।”
এদিকে নগরীর পাঁচটি বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন থাকা ১৩টি সাবস্টেশন অতিরিক্ত চাপের মুখে রয়েছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে বারবার ফিউজ ও তার ছিঁড়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে ভোল্টেজ ড্রপ এখন নিত্যদিনের ঘটনা।
বিউবো কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সিলেট অঞ্চলে বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল প্রায় ৩৩ শতাংশ। সিলেট বিতরণ বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শামস-ই-আরেফিন বলেন, “আমাদের হাতে বিদ্যুৎ নেই। ঢাকা থেকে যখন-তখন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, এতে পুরো সিস্টেমে ফ্রিকোয়েন্সি ডাউন হয়। ঢাকার সিদ্ধান্ত সিলেটের বাস্তবতায় ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে।”
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি শিগগির স্বাভাবিক না হলে সংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং চিকিৎসা সেবাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ক্ষুব্ধ নাগরিকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। কেউ কেউ বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করায় উত্তেজনাও ছড়াচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিলেটের বিদ্যুৎ সংকট এখন শুধু প্রযুক্তিগত নয়—এটি পরিণত হয়েছে একটি গভীর প্রশাসনিক ব্যর্থতায়। দ্রুত সমাধান না এলে জনবিক্ষোভও তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।





















