সিলেট প্রতিনিধি ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৭:০৭:৩২ প্রিন্ট সংস্করণ
দায়িত্ব পেলে পাঁচ বছরের মধ্যেই দেশের চেহারা পাল্টে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম ও মা-বোনদের স্বপ্নের যে নতুন বাংলাদেশ, তা পাঁচ বছরেই দৃশ্যমান হবে।
শনিবার বিকেলে সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জেলা ও মহানগর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এই সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.) তৎকালীন ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এসেছিলেন। আমরা তাঁরই উত্তরসূরি। বাংলাদেশে গত ৫৪ বছর ধরে জুলুমের রাজনীতি চলছে। সবচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার হয়েছে জামায়াতে ইসলামী।”
তিনি আরও বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম—জামায়াত কোনো জালিমের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেবে না। আমরা ক্ষমা করেছি, নেতাকর্মীরাও কথা রেখেছে। দল হিসেবে আমরা প্রতিশোধ নেইনি, মামলা বাণিজ্য করিনি; কিন্তু অনেকে মামলা বাণিজ্য করেছে।”
সিলেট খনিজ সম্পদে ভরপুর উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “সিলেটের খনিজ সম্পদের ন্যায্য হিস্যা সিলেটবাসী পাচ্ছে না। এখনো সব এলাকায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ পৌঁছেনি। নদীগুলো ধ্বংস করা হয়েছে, মদ ও গাঁজায় সিলেট ছেয়ে গেছে। আমরা দায়িত্ব পেলে এসব বন্ধ করবো। কেবল নদী খনন নয়, নদীবান্ধব বাংলাদেশ গড়বো।”
তিনি বলেন, “এই দেশে আর কেউ চাঁদাবাজি করতে পারবে না। কোনো অফিস-আদালতে ঘুষ নেওয়ার সাহস বা সুযোগ থাকবে না।”
দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “৫৪ বছরে দেশের টাকা লুট হয়েছে। কেউ ফেরেশতা ছিল না—কেউ কম, কেউ বেশি চুরি করেছে। যারা জনগণের টাকা লুট করেছে, আমরা দায়িত্ব পেলে তাদের ছাড় দেবো না। দুর্নীতি বন্ধ হলে উন্নয়নও হবে।”
সিলেট প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সিলেটে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে—নামে আন্তর্জাতিক, কাজে নয়। আমরা নামেই নয়, কাজেই এই বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করবো।”
কৃষি ও শ্রমজীবী মানুষের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কৃষকদের হাতে সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হবে, কৃষিপণ্যের বাজার নিশ্চিত করা হবে। জেলেদের হাতে জাল দেওয়া হবে—জাল যার, জলা তার। চা-বাগানের সন্তানদের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে।”
নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একদল মা-বোনদের সম্মান দিতে জানে না। আমি প্রতিবাদ করায় আমার দিকে ‘মিসাইল’ ছোড়া হয়েছে। আমার এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে মা-বোনদের নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়েছে। এখন চোর ধরা পড়েছে। তবুও তারা চোরের পক্ষ নিচ্ছে—এটাই চোরের মায়ের বড় গলা। আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি, এ নিয়ে আর কথা বলবো না।”
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, “আমি এই সিলেটের সন্তান। আপনাদের কোলেই বড় হয়েছি। আজ জামায়াতের আমির হিসেবে নয়, আপনাদের একজন হিসেবে দাঁড়িয়েছি। আমাদের একবার সুযোগ দিন। আমরা দেশের মালিক হবো না—আপনাদের চৌকিদার হবো। সবার ন্যায্য মর্যাদা নিশ্চিত করবো।”
সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে সমাবেশে ১১-দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ, জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা এবং সিলেটের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা বক্তব্য দেন। পরে জামায়াত আমির সিলেটের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।
সমাবেশে দুপুর থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এবারই প্রথম সিলেটে জামায়াতের সমাবেশে বিপুল সংখ্যক নারী অংশগ্রহণ করেন।




















