প্রতিনিধি ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২:০৯:১৭ প্রিন্ট সংস্করণ
আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে দুই সাবেক ফুটবল ফেডারেশন প্রেসিডেন্টকে আজীবন নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। তাদের একজন ২০১১ সালে ক্যারিবীয় অঞ্চলের বহুল আলোচিত নির্বাচনী ঘুষ কেলেঙ্কারিতে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েও দীর্ঘদিন নিজ পদে বহাল ছিলেন।
মন্টসেরাট ফুটবলের দীর্ঘদিনের কর্তা ভিনসেন্ট ক্যাসেলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, পরিকল্পিত স্বার্থের সংঘাত এবং ফিফা ও ফেডারেশনের অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়। শুক্রবার এক বিবৃতিতে ফিফা এসব তথ্য জানিয়েছে।
মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট বাসাম আদিল জলিলকেও ফুটবল থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। ফিফা জানিয়েছে, কোভিড-১৯ ত্রাণ তহবিলের অর্থ ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ব্যবহারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
করোনাভাইরাস মহামারির সময় ২০২০ সালে ফিফা জানিয়েছিল, বিভিন্ন অনুদান ও ঋণের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর জন্য সর্বোচ্চ ১৫০ কোটি ডলার সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, চলতি বছর জলিলকে ফিফার ১২ লাখ ডলার আত্মসাতের দায়ে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই অর্থ স্থানীয় ফুটবল ক্লাবগুলোর জন্য বরাদ্দ ছিল বলে জানা যায়। তবে সেটি দিয়ে অ্যাপার্টমেন্ট কেনা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
ক্যাসেল ও মন্টসেরাট ফুটবল ফেডারেশনের দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদক ট্যান্ডিকা হিউজ গত এপ্রিল মাসে মন্টসেরাটের একটি আদালতে কর ফাঁকির অভিযোগে নিজেদের দোষ স্বীকার করেন।
২০১১ সালেও ক্যারিবীয় ফুটবল কর্মকর্তাদের ঘুষ গ্রহণের ঘটনায় ফিফার তৎকালীন নৈতিকতা কমিটি ক্যাসেল ও হিউজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিল। কাতারের মোহাম্মদ বিন হাম্মামের পক্ষ থেকে সেপ ব্লাটারের বিরুদ্ধে ফিফা সভাপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ব্যর্থ প্রচারণার সময় ক্যারিবীয় কর্মকর্তাদের ৪০ হাজার ডলার করে নগদ অর্থ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।
তবে এরপরও ক্যাসেল ও হিউজ মন্টসেরাটের ফুটবল সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনা করে যান। বিশ্বকাপ থেকে ফিফার আয়ের অর্থের ভাগ হিসেবে সংস্থাটি বছরে অন্তত ২০ লাখ ডলার পাওয়ার অধিকারী। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ক্যাসেল ও হিউজ সরে যাওয়ার পর ফিফা সেখানে জরুরি ব্যবস্থাপনা দল নিয়োগ করে।
মন্টসেরাটের দৈনন্দিন কার্যক্রমে তদারকি বসানোর কারণ হিসেবে ফিফা বলেছিল, সেখানে ‘অসাধারণ সংকট ও প্রাতিষ্ঠানিক অচলাবস্থা’ তৈরি হয়েছিল।
হিউজকে ১৫ বছরের জন্য ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করেছে ফিফার বিচারিক কমিটি। অনিয়মপূর্ণ লেনদেন থেকে সুবিধা নেওয়া ও তা সহজতর করা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগে তাকে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
ক্যাসেলের বিরুদ্ধে ফেডারেশনের কর্মীদের শারীরিক ও মানসিক সুরক্ষাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন আচরণের অভিযোগও আনা হয়। তাকে ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছে। তবে এই অর্থ আদায়ে ফিফার কী ধরনের ক্ষমতা রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
হিউজকে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করার কথাও জানিয়েছে ফিফা।
মালদ্বীপের জলিলকেও ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছে। ফুটবল থেকে তাকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার দুই বছরেরও বেশি সময় পর তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হলো।
মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক অর্থ পরিচালক মোহাম্মদ আগিলকে ১০ বছরের জন্য ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে ১ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছে।
ফিফা জানিয়েছে, ফিফার অর্থের অপব্যবহার সহজতর করা ও তা গোপন করা, জাল নথি ব্যবহার এবং নৈতিকতা তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগ ছিল আগিলের বিরুদ্ধে।
গত বছর মালদ্বীপ সফরে গিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এক বিবৃতিতে স্বীকার করেছিলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মালদ্বীপের ফুটবল নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে।’
ক্যাসেল ও জলিল—দুজনই ২০১৬ সালে ইনফান্তিনোর সঙ্গে একই সময়ে নিজ নিজ ফেডারেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। পরের বছর বাহরাইনে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসেও তারা নিজ নিজ ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
২০১৭ সালে মানামায় দেওয়া এক বক্তব্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। তিনি বলেছিলেন, ‘এই কক্ষে বা এই কক্ষের বাইরে কেউ যদি এখনও মনে করে সে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পারবে, ফুটবলকে অপব্যবহার করতে পারবে, তাহলে তাকে আমার একটি স্পষ্ট ও শক্ত বার্তা—ফুটবল ছেড়ে দিন, এখনই ফুটবল ছেড়ে দিন।’















