প্রতিনিধি ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৭:১৬:৪৩ প্রিন্ট সংস্করণ
ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫তম সমাবর্তন ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (সোমবার) রাজধানীর আফতাবনগর খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন(বিপিএসসি)- এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম শিক্ষার্থীদের ডিগ্রী প্রদাণ করেন। এ সমাবর্তনে আন্ডার গ্রাজুয়েট ও গ্রাজুয়েট প্রোগ্রামের ১৮৫৭ জন শিক্ষার্থীকে সনদ দেয়া হয়। এছাড়া সিজিপিএ ৪.০ এর মধ্যে ৪.০ পাওয়া অনন্য মেধাবী নয়জন শিক্ষার্থীকে দেয়া হয় স্বর্ণ পদক।
ড. মোবাশ্বের মোনেম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, জ্ঞান ও দক্ষতা তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা নৈতিকতার আলোকে পরিচালিত হয়। সেইসাথে, দেশকে ভালবাসার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর মতে, দেশের কল্যাণ আত্মিক মুক্তি দেয়। সমকালীন বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে অধ্যাপক মোনেম জাতীয় ও বৈশ্বিক এই অস্থিরতা দূর করে শান্তির ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রকৃতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের অস্তিত্ব প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। তাই, ক্রমাগত ধ্বংসের দিকে যাওয়া প্রকৃতি রক্ষার নৈতিক দায়িত্ব সবাইকে পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের জাতি এখন শুধু চাকুরিপ্রার্থী খোঁজে না, আমাদের দরকার সমস্যার সমাধানকারি ও নৈতিক পেশাজীবীর। উচ্চ বেতন, পদবী কিংবা সামাজিক মাধ্যমে সুন্দর প্রোফাইল সফলতার উদাহরণ নয়। তাঁর মতে, সফলতা সেটাই যা সমাজ, জাতি ও বিশ্বের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এবং বার বার ব্যর্থতার হাত ধরেই একসময় সফলতা আসে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় সর্বদা মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে সকলকে সাথে নিয়ে স্বচ্ছতার সাথে চলার চেস্টা করেছে। তাই, তিনি আশাবাদি বিগত বছরে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা গ্র্যাজুয়েটগণ এখান থেকে যে ধরণের দক্ষতা, নৈতিকতা, মানবিকতার শিক্ষা অর্জন করেছেন; তা দিয়ে আগামিতে একটি বৈষম্যহীন সমতার সমাজ গড়তে অবদান রাখবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামস রহমান শিক্ষার্থীদের বলেন, ডিগ্রি অর্জনের আত্মতৃপ্তিতে ‘কমফরট জোনে’ বসে থাকলে জড়তা চলে আসবে। তাই, ভবিষ্যৎ রচনা করতে ‘কমফরট জোন’ থেকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। কারণ এখন প্রতিযোগিতা শুধু পাশের সহকর্মীর সাথে নয়, বিশ্বের সবেচেয়ে দক্ষ মানুষটির সাথেও হতে পারে। সেইসাথে, নৈতিকতা ও মানবিকতা দিয়ে সুনাগরিক হবার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্টজন, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যগণ, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, বিভিন্ন অনুষদের ডীন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারপার্সন, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, গ্রাজুয়েট ও তাঁদের অভিভাবকরা অংশ নেন। শিক্ষা জীবনের শেষে যথাসময়ে সনদ হাতে পাওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।





















