সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ , ১০:৪১:২২ প্রিন্ট সংস্করণ
নেত্রকোনা পৌর শহরের ছোট বাজার এলাকার ওয়াজেদ কমপ্লেক্সে একটি যৌথ ঠিকাদারি চেম্বার থেকে ঠিকাদার ফজলুর রহমানের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেল ৪টা থেকে ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাটি ঘটে বলে জানায় পুলিশ।
খবর পেয়ে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওয়াজেদ কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলার পশ্চিম পাশের একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। কক্ষের ভেতরে একটি চেয়ার ও টেবিল পাওয়া যায় এবং দরজার খিলান খোলা ছিল—যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।
মৃত ফজলুর রহমান দীর্ঘ ১০–১২ বছর ধরে কয়েকজন অংশীদারের সঙ্গে যৌথভাবে ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। ঘটনার পর তার স্ত্রী তাহিরা হালিম বাদী হয়ে হত্যার অভিযোগে থানায় একটি লিখিত মামলা দায়ের করেন। মামলায় দাবি করা হয়, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, যৌথ ব্যবসায়ীদের কাছে ফজলুর রহমানের প্রায় দেড় কোটি টাকা পাওনা ছিল এবং তিনি প্রায় দুই কোটি পঞ্চাশ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। পাওনা টাকার বিষয়ে চাপ দেওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে অংশীদারদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, এর আগেও তিনি চেম্বারে অপমান ও শারীরিক আঘাতের শিকার হন এবং চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি হতে হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার দিন তিনি বাড়ি থেকে স্বাভাবিক ও হাসিখুশি মনেই ব্যবসায়িক কাজে বের হন। অল্প সময়ের মধ্যেই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ায় তারা ঘটনাটিকে অত্যন্ত সন্দেহজনক বলে মনে করছেন।
পুলিশের বক্তব্যে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি রহস্যজনক মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। মামলার ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।” তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় নেত্রকোনা শহরে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, মৃত ঠিকাদারের পাওনা অর্থ তার পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পুলিশ জানায়, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




















