প্রতিনিধি ৩ জানুয়ারি ২০২৫ , ৪:৩০:৫১ প্রিন্ট সংস্করণ
নামাজ ঈমানের পর সর্বোচ্চ ফরজ ইবাদত। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে—
“নামাজ নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা মুমিনদের জন্য অবশ্য কর্তব্য।”
(সূরা নিসা, আয়াত: ১০৩)
পুরুষ ও নারীর শারীরিক গঠন, পর্দা, সতর, সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদি বিবেচনায় ইসলাম নামাজের পদ্ধতিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য নির্ধারণ করেছে। যেমন:
তাকবিরের সময় হাত তোলা,
হাত বাঁধার স্থান,
সেজদা ও রুকুর ভঙ্গি,
বৈঠকের ধরন ইত্যাদি।
এই বিধানগত পার্থক্যের ভিত্তি শুধু কিয়াস নয়, বরং হাদিস, সাহাবি ও তাবেঈনদের আমল, চার ইমামের মাজহাব এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ফিকহি ইজমা।
১. তাবেঈ ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব (রহ.) বলেন—
“মহিলারা সেজদায় শরীর জমিনে মিলিয়ে দেবে, কারণ তারা পুরুষদের মতো নয়।”
(সুনানে বায়হাকি: ৩০১৬)
২. হাদিসে এসেছে—
“মহিলা বসবে উরু একটার ওপর আরেকটা রেখে, সেজদায় পেট উরুর সঙ্গে লাগিয়ে রাখবে।”
(সুনানে বায়হাকি: ২/২২৩)
৩. ওয়াইল ইবনে হুজর (রা.) বলেন—
“পুরুষ হাত তুলবে কান বরাবর, নারী তুলবে বুক বরাবর।”
(আল-মুজামুল কাবীর: ২৮)
৪. ইবনে আব্বাস (রা.)-কে প্রশ্ন করা হলে বলেন—
“নারী জড়সড় হয়ে নামাজ পড়বে।”
(মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা: ১/৩০২)
৫. ইমাম আবু হানিফা, শাফেয়ি, মালিক ও আহমদের বক্তব্যও এ বিষয়ে অভিন্ন।
একটি হাদিসকে—
“তোমরা আমাকে যেভাবে নামাজ পড়তে দেখেছ, তেমনিভাবে নামাজ পড়ো”
(সহিহ বুখারি: ৬০০৮)
—ভিত্তি করে কেউ কেউ দাবি করেন, নারী-পুরুষের নামাজে কোনো পার্থক্য নেই। অথচ—
হাদিসটি শুধু পুরুষ সাহাবিদের উদ্দেশ্যে ছিল।
তাতে আজান ও ইমামতির নির্দেশ ছিল, যা নারীর জন্য নয়।
তাই এটিকে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য সাধারণ নির্দেশ হিসেবে নেওয়া ভুল ব্যাখ্যা।
হাদিস, সাহাবিদের আমল, তাবেঈন, চার ইমাম, হাজার বছরের ফিকহি চর্চা—সবই সাক্ষ্য দেয়, নারী ও পুরুষের নামাজ এক নয়। ইসলামের বিধান নারীকে তার নিরাপত্তা, পর্দা ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রক্ষার আলোকে আলাদা আমল দিয়েছে। এটি শরিয়তের সৌন্দর্য ও ভারসাম্যের বহিঃপ্রকাশ।
ইখলাসের সাথে শরিয়তের বিধান মানা।
সুন্নাহের নামে বিদআত বা অজ্ঞতাপ্রসূত ব্যাখ্যা না দেওয়া।
আলেমদের বক্তব্য ও প্রমাণিত ফিকহ গ্রহণ করা।
আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ, গ্রহণযোগ্য আমল এবং অহঙ্কারহীন অনুসরণের তাওফিক দান করুন। আমিন।





















