শফিউল মঞ্জুর ফরিদ, বিশেষ প্রতিনিধি: ৬ এপ্রিল ২০২৬ , ৮:০৫:২৮ প্রিন্ট সংস্করণ
দক্ষিণাঞ্চলের পেঁয়াজ ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত ফরিদপুরে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। তবে মাঠজুড়ে থোকায় থোকায় লাল টকটকে পেঁয়াজ দেখা গেলেও কৃষকদের মুখে হাসি নেই। বাজারদর উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম হওয়ায় লোকসানে পড়েছেন তারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ফরিদপুরে প্রায় ৪৮ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। সালথা, নগরকান্দা, ভাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলায় সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সার, বীজ, শ্রমিক ও সেচসহ প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ১,৪০০ থেকে ১,৫০০ টাকা। অথচ বাজারে মানভেদে প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১,১০০ টাকায়। এতে প্রতি মণে কৃষকের লোকসান হচ্ছে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।
সালথা উপজেলার এক কৃষক বলেন, “ধার-দেনা করে চাষ করেছি। ফলন ভালো হলেও দাম নেই। এখন মহাজনের টাকা দেব নাকি পরিবারের খরচ চালাব, বুঝতে পারছি না।”
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় এবং কৃষকদের নগদ অর্থের প্রয়োজন থাকায় পেঁয়াজের দাম কমে গেছে। সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুদর্শন সিকদার বলেন, ঋণের কিস্তির চাপে কৃষকরা পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারছেন না। ফলে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ বাজারে আসায় দাম কমে যাচ্ছে।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কৃষকরা সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে—ধান-গমের মতো পেঁয়াজের জন্য সরকারি ক্রয়মূল্য নির্ধারণ, প্রতিটি ইউনিয়নে আধুনিক কোল্ডস্টোরেজ স্থাপন এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর সমন্বয়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, “আবাদ বেশি হওয়ায় সরবরাহ বেড়েছে। বাজার ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় এবং আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা ছাড়া কৃষকদের লোকসান কমানো কঠিন।”
তীব্র গরমে কষ্ট করে উৎপাদিত পেঁয়াজ যখন পানির দরে বিক্রি করতে হচ্ছে, তখন আগামী মৌসুমে আবাদ কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ফরিদপুরের কৃষকরা।





















