অর্থ-বাণিজ্য

বিএনপি জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে অস্বীকার করছে: ডাকসু

  নিজস্ব প্রতিবেদক: ৩ নভেম্বর ২০২৫ , ২:২৫:১৩ প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) বলেছে, বিএনপি মূলত জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে অস্বীকার করে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে ডাকসু মনে করে, দেশের সংস্কার কার্যক্রমে জনগণের ম্যান্ডেট নিশ্চিত করতে গণভোটের কোনো বিকল্প নেই।

রোববার রাতে ডাকসুর সভাপতি সাদিক কায়েম, সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই বিপ্লব ছিল বৈষম্য, অবিচার ও ফ্যাসিবাদী শাসনকাঠামোর বিরুদ্ধে ছাত্র–জনতার সম্মিলিত আন্দোলন। কেবল সরকার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার, ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ, স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠন এবং প্রশাসনিক নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই ছিল এই বিপ্লবের মূল লক্ষ্য।

ডাকসুর নেতারা বলেন, “নতুন প্রজন্ম এমন একটি বাংলাদেশ চায় যেখানে কোনো বৈষম্য বা রাজনৈতিক একচেটিয়া কর্তৃত্ব থাকবে না। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেও ধারাবাহিকভাবে সংস্কার কার্যকর করার বিরোধিতা করছে।”

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, বিএনপি এমন কিছু মৌলিক সংস্কারের বিরোধিতা করছে যা সরাসরি ছাত্র–জনতার স্বপ্নের সঙ্গে জড়িত। পিএসসি, দুদক, ন্যায়পাল ও মহা–হিসাব নিরীক্ষকের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাবমুক্ত নিয়োগের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে তারা ক্ষমতার একচ্ছত্র দখলদারি বহাল রাখতে চায়।

এছাড়া বিএনপি জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কমিশনের বিরোধিতা, সংবিধানের অনুচ্ছেদ–৭০ সংস্কারে আপত্তি, প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানকে পৃথক করার প্রস্তাবের বিরোধিতা, আইন পেশায় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের প্রতিবন্ধকতা এবং স্বতন্ত্র ফৌজদারি তদন্ত সার্ভিস গঠনে আপত্তি জানিয়ে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের পথে বাধা দিচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

ডাকসু বলেছে, এই সংস্কারগুলো ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থ নয়, বরং রাষ্ট্রের মৌলিক রূপান্তর ও আধুনিক, গণতান্ত্রিক, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গঠনের উদ্দেশ্যে প্রস্তাবিত হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ গঠনের নৈতিক দায়িত্ব ছাত্র ও সর্বস্তরের জনগণের। তাই সংস্কারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনগণ থেকেই নিতে হবে। আর গণভোটই জনগণের ম্যান্ডেট নিশ্চিতের উপযুক্ত মাধ্যম।”

শেষে ডাকসু সতর্ক করে জানায়, কোনো রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব যদি রাষ্ট্র গঠনমূলক সংস্কারের পথে বাধা সৃষ্টি করে, তবে ছাত্র–জনতা সেই বাধা অতিক্রমে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেবে।

আরও খবর

Sponsered content