মোঃ শাহ্ আলম মন্ডল, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ১৫ অক্টোবর ২০২৫ , ১০:০৬:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কৃষকেরা আগাম শীতকালীন সবজি চাষ ও ফসল পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। সাধারণত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে বাজারে শীতকালীন সবজি উঠলেও এবার কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে মৌসুমের শুরুতেই সবজি বাজারে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে একদিকে যেমন চাহিদা বেশি, তেমনি দামও ভালো পাওয়ার আশায় আছেন তারা।
উপজেলার মাহমুদপুর, হাবিবপুর, সারঙ্গপুর, প্রস্তমপুর, চক হরিদাসপুর, মুন্নাপাড়া, জোতজয়রাম, ভেলারপাড় ও পটুয়াকোলসহ বিভিন্ন এলাকায় মাঠজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। আলু, বেগুন, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, করলা, লাউ, ঢেঁড়শ, শসা ও বিভিন্ন প্রজাতির শাকসবজির চারা রোপণ ও ক্ষেত পরিচর্যা চলছে। ইতোমধ্যে কিছু আগাম সবজি বাজারেও উঠতে শুরু করেছে।
হাবিবপুর গ্রামের কৃষক শাহ আলম জানান, তিনি সাড়ে চার বিঘা জমিতে আগাম জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, শিম ও শসা চাষ করেছেন। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে ফসলের উৎপাদন ভালো হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে পৌর এলাকার মাহমুদপুর মুন্সিপাড়ার কৃষক রবেন সরেন বলেন, গত কয়েক বছর ধরে আগাম সবজি চাষ করে ভালো লাভ পেয়েছেন। এবারও তিনি প্রায় দেড় বিঘা জমিতে বিভিন্ন সবজি লাগিয়েছেন। কৃষি অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করায় অতিবৃষ্টিতেও ফসলের ক্ষতি হয়নি।
প্রস্তমপুর দয়েরপাড় গ্রামের চাষি সানোয়ার হোসেন বলেন, মৌসুমের শুরুতে সবজি বিক্রি করলে দাম ভালো পাওয়া যায়। এবার তিনি ৫০ শতক জমিতে বাঁধাকপি, ৩০ শতকে আলু ও ১৪ শতকে পিঁয়াজ চাষ করেছেন। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে সামান্য ক্ষতি হলেও এখন আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তিনি আশাবাদী।
বিরামপুর পৌরসভা ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমা নাসরিন বলেন, “আগাম সবজি চাষ এখন অত্যন্ত লাভজনক। এতে একদিকে কৃষকের আয় বাড়ছে, অন্যদিকে স্থানীয় বাজারেও সরবরাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কীটনাশকমুক্ত ও আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কমল কৃষ্ণ রায় জানান, চলতি খরিপ-২ মৌসুমে বিরামপুর উপজেলায় ১৫৬ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বাঁধাকপি ৩৫ হেক্টর, ফুলকপি ৪৫ হেক্টর, শিম ৮ হেক্টর, বেগুন ১৫ হেক্টরসহ বিভিন্ন সবজির আবাদ রয়েছে। আসন্ন রবি মৌসুমে ১,২৮০ হেক্টর জমিতে শাকসবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আগাম শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হবে এবং কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে।”





















