খেলাধুলা

বিশ্বকাপে থাকছে যেসব নতুন প্রযুক্তি

  প্রতিনিধি ৬ জুন ২০২৬ , ৪:১২:৪৯ প্রিন্ট সংস্করণ

ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ আসর হতে যাচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। এবার প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হবে এই ৩৯ দিনের টুর্নামেন্ট। সর্বাধিক দল অংশগ্রহণ, প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার এবং ভক্তদের জন্য উন্নত অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে এটি হতে যাচ্ছে এক ভিন্নধর্মী আসর।

ফিফা জানিয়েছে, ম্যাচ পরিচালনা ও দর্শক অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করতে এবার ফুটবলে যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি। নিচে থাকছে নতুন কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন—

১. সেন্সরযুক্ত ম্যাচ বল

২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বলের নাম ‘ত্রিওন্দা’, যার অর্থ ‘তিনটি ঢেউ’। এই বলে একটি বিশেষ সেন্সর চিপ যুক্ত থাকবে, যা প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫০০ বার বলের গতি ও অবস্থান বিশ্লেষণ করতে পারবে।

এই তথ্য সরাসরি ভিডিও সহকারী রেফারি ব্যবস্থায় পাঠানো হবে, যাতে অফসাইডসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নেওয়া যায়।

২. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ত্রিমাত্রিক খেলোয়াড় মডেল

ফিফা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লেনোভোর সহযোগিতায় খেলোয়াড়দের ত্রিমাত্রিক ডিজিটাল মডেল তৈরি করা হবে। প্রতিটি খেলোয়াড়কে স্ক্যান করে তাদের শরীরের সঠিক মডেল তৈরি করা হবে, যা খেলার সময় তাদের গতিবিধি বিশ্লেষণে সহায়তা করবে।

এছাড়া রেফারিদের শরীরে ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে, যাতে দর্শকরা মাঠের ভেতরের দৃষ্টিভঙ্গি আরও বাস্তবভাবে দেখতে পারেন।

৩. রোবট কুকুর

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেক্সিকোর পুলিশ ব্যবহার করবে রোবট কুকুর। এগুলো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করে সরাসরি ভিডিও পাঠাতে পারবে এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সাহায্য করবে।

৪. উন্নত আধা-স্বয়ংক্রিয় অফসাইড প্রযুক্তি

এবার অফসাইড সিদ্ধান্ত আরও দ্রুত ও নির্ভুল করতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এখন মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার ব্যবধানেও অফসাইড শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

রেফারির কানে সরাসরি অডিও সংকেত পাঠানো হবে, ফলে সিদ্ধান্ত নিতে আগের চেয়ে অনেক কম সময় লাগবে।

৫. নির্ধারিত হাইড্রেশন বিরতি

প্রতিটি ম্যাচের দুই অর্ধে নির্দিষ্ট সময়ে তিন মিনিটের বিরতি থাকবে, যাতে খেলোয়াড়রা পানি পান ও বিশ্রাম নিতে পারেন। আবহাওয়া যাই হোক, এই বিরতি বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর হবে।

ফিফা জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।

সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া আসর নয়, বরং প্রযুক্তি ও ফুটবলের এক নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে।

আরও খবর

Sponsered content