নওগাঁ প্রতিনিধি: ৮ অক্টোবর ২০২৬ , ২:৩২:৫৬ প্রিন্ট সংস্করণ
নওগাঁর মান্দায় চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে ৮ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মো. এমদাদুল হক পিন্টু নামে এক যুবদলকর্মী এ অভিযোগ করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুল জলিল।
পিন্টু উপজেলার পরানপুর ইউনিয়নের ফেটগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা এবং ৩ নম্বর পরানপুর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য। তাঁর অভিযোগ, স্ত্রীকে দলিল লেখক সমিতির মুহরী পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আব্দুল জলিলের মাধ্যমে তাঁর কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা নেওয়া হয়। দীর্ঘদিনেও চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে ২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়। তবে বাকি ৬ লাখ টাকা এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁর।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত ২৫ সেপ্টেম্বর নওগাঁ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের কাছে লিখিত আবেদন করেন পিন্টু। আবেদনের অনুলিপি যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছেও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
পিন্টু বলেন, “চাকরির আশায় আমার স্ত্রী ও মা সোনার গহনা বন্ধক রেখে টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। টাকা ফেরত না পাওয়ায় এখন পরিবার নিয়ে আর্থিক সংকটে আছি। পাশাপাশি ঋণের সুদের বোঝাও বাড়ছে।”
পিন্টুর দাবি, ওই ৮ লাখ টাকার মধ্যে ২ লাখ টাকা সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপুকে দেওয়া হয়েছে বলে আব্দুল জলিল তাঁকে জানিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”
পিন্টু আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি স্থানীয় দলীয় নেতাদের জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। তাঁর দাবি, আব্দুল জলিল তাঁকে বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে যত অভিযোগই করা হোক, তাঁকে কোনোভাবেই সরানো যাবে না।
নওগাঁ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ হায়দার টিপু বলেন, “অভিযোগের অনুলিপি পেয়েছি এবং বিষয়টি কেন্দ্রীয় অফিসে জানানো হয়েছে। ৮ লাখ টাকা গ্রহণের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে, বাকি ৬ লাখ টাকা তাঁর কাছে আছে। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. টিপু ভাইয়ের নাম ভাঙানো হয়েছে—তাঁর নামে আনা অভিযোগ সত্য নয়।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল জলিল বলেন, “আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য একটি চক্র মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।”
আব্দুল জলিল মান্দা উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের বড়পই গ্রামের মৃত নওসাদ আলী মিস্ত্রির ছেলে।
পিন্টু তাঁর কাছ থেকে নেওয়া বাকি ৬ লাখ টাকা ফেরত এবং অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।





















