মো: সাকিব চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ , ১২:২৭:০৫ প্রিন্ট সংস্করণ
রংপুরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে যুবকদের উদ্দেশ্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান বলেছেন, “কথা দিচ্ছি, আমরা সুযোগ পেলে তোমাদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ব। আমরা সমাজের চাবি ও নেতৃত্ব তোমাদের হাতে তুলে দিয়ে পিছন থেকে তোমাদেরকে শক্তি ও সমর্থন দিয়ে যাব।”
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল পৌনে ৯টার দিকে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের কবরস্থানে উপস্থিত হয়ে তিনি কবর জিয়ারত করেন এবং তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন।
জিয়ারত শেষে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন আমিরে জামায়াত। তিনি আবু সাঈদের ত্যাগ ও সাহসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। এ সময় আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনকে বুকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন ড. শফিকুর রহমান।
আবু সাঈদের বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “আবু সাঈদসহ সব শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা ইনশাআল্লাহ লড়াই চালিয়ে যাব। জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমরা ন্যায়, ইনসাফ ও জবাবদিহিতার বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।”
তিনি বলেন, “তোমাদের ভোট নিয়ে যেন কেউ হেলাফেলা করতে না পারে, এজন্য তোমাদের জুলাই যুদ্ধের মতো আরেকবার লড়তে হবে এবং জনতার বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে।”
ড. শফিকুর রহমান বলেন, “শহীদ আবু সাঈদ ও তার সঙ্গীরা জীবন দিয়ে আমাদের রেডি করে গেছেন। আমাদের ঘাড়ে তারা দায়িত্ব ও আমানত রেখে গেছেন। আমরা তাদের মতো জীবন দিয়ে হলেও সেই আমানত রক্ষা করার লড়াই করে যাব।”
তিনি আরও বলেন, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত, দুঃশাসন ও আধিপত্যবাদমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়া, যেখানে সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করবে এবং যার যার দক্ষতা অনুযায়ী জাতি গঠনে অবদান রাখবে।
শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করে তিনি বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চলছে। আমরা চাই অতি দ্রুত বিচার শেষ করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। তার পরিবারকে আমরা মাথার তাজ করে রাখব—মুখের কথায় নয়, বাস্তবে তা দেখবেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে প্রত্যেকটি নাগরিক নিরাপদে বসবাস করবে। আমরা চরম বিপদের দিনে দেশে ছিলাম, এখনো আছি এবং আগামী দিনেও পরিস্থিতি যাই হোক আপনাদের সঙ্গেই দেশেই থাকব। আমরা দেশ ছেড়ে অন্য কোনো জায়গায় ঠিকানা খুঁজব না।”
জামায়াত আমির বলেন, “আমাদের নিজস্ব কোনো এজেন্ডা নেই। পাঁচ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত আমরা কোনো চাঁদাবাজি করিনি, কোনো দুর্নীতি করিনি, মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করিনি, কারো ওপর ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নেইনি। বরং একটি শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনের জন্য জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে চেয়েছি।”
তিনি বলেন, বিভক্তির অবসান ঘটাতে ১০টি দল একত্রিত হয়েছে এবং পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে।
যুবকদের উদ্দেশ্যে তিনি পুনরায় বলেন, “যুবকদের কথা দিচ্ছি, আমরা সুযোগ পেলে তোমাদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ব। সমাজের চাবি ও নেতৃত্ব তোমাদের হাতে তুলে দিয়ে আমরা পিছন থেকে শক্তি ও সমর্থন দিয়ে যাব। তোমাদের ভোট নিয়ে যেন কেউ হেলাফেলা করতে না পারে, এজন্য জুলাই যুদ্ধের মতো আরেকবার লড়তে হবে এবং জনতার বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর-৬ আসনের প্রার্থী মাওলানা নুরুল আমিন, রংপুর-৪ আসনের প্রার্থী ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহসহ জামায়াত-শিবিরের অন্যান্য নেতারা।





















