রাজনীতি

যেসব শর্তে জামায়াতের সঙ্গে করা যাবে নির্বাচনী সমঝোতা

  প্রতিনিধি ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৬:১০:৪৫ প্রিন্ট সংস্করণ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেকোনো দল জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা করতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তবে মানতে হবে কয়েকটি শর্ত।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্যসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এ কথা জানান।

সম্মেলনে শফিকুর রহমান বলেন, ‘তিন শর্ত মানলে যেকোনো দল জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা করতে পারে।’ তার ভাষ্যে শর্তগুলো হলো—দুর্নীতি করবে না, দুর্নীতিবাজকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। সমাজের সর্বস্তরে সবার জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করা হবে, কোনো রাজনীতিবিদ বিচারে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। সংস্কারের সব সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।

ছাত্রশিবির সম্পর্কে জামায়াতের আমির বলেন, ‘এটি (শিবির) এখন শুধু একটি সাধারণ ছাত্রসংগঠন নয়, চব্বিশের বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ ভালোবাসা দিয়ে এই সংগঠনকে গ্রহণ করেছে। তাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে। আজ ছাত্রশিবিরকে ছাত্রসমাজের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘গত ৫৪ বছর ছাত্রদের হাত থেকে কলম কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। কোমলমতি ছাত্রদের বিভ্রান্ত করে তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মিনি–ক্যান্টনমেন্টে পরিণত হয়েছিল। মেয়েদের ইজ্জত, ছাত্রদের জীবন ও ক্যারিয়ারের কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। সেই কালো অধ্যায় বিদায় নিতে শুরু করেছে। কিন্তু কালো ছায়া এখনো জাতির ওপর থেকে যায়নি। এই কালো ছায়া খতম না করা পর্যন্ত ছাত্রশিবিরের লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে।’

শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যে শিক্ষা নিয়ে কেউ বেকার থাকবে না। অনেকে সংখ্যা গুনে বলছেন, তারা এত কোটি, এত লাখ যুবককে কর্মসংস্থান দেবেন। অন্যদের কী হবে? বলছেন, অন্যদের ভাতা দেবেন। কিন্তু দেশের তরুণেরা কারও কাছ থেকে বেকার ভাতা গ্রহণ করুক, তা তারা দেখতে চান না, শুনতেও চান না। তারা প্রত্যেকের হাতকে দেশ গড়ার কারিগরের হাতে পরিণত করতে চান। প্রত্যেকের হাতে কের হাতে কাজ তুলে দিতে চান।’

আরও খবর

Sponsered content