মো: গোলাম কিবরিয়া , রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি ৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ১২:১৭:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজশাহী মহানগরীতে এক রিকশাচালকের অনন্য সততা এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) তাৎক্ষণিক তৎপরতায় হারানো মালামাল ফিরে পেয়েছেন এক নারী। সমাজে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ যে এখনো অটুট রয়েছে, এ ঘটনা তারই এক উজ্জ্বল প্রমাণ।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহী মহানগরীর উপশহর এলাকা থেকে এক নারী যাত্রীকে রিকশায় তোলেন মো. আবুল হোসেন। তিনি গোদাগাড়ী থানার ফরাজপুর গ্রামের মো. আব্দুল মান্নানের ছেলে। যাত্রীকে বোয়ালিয়া থানার জিরো পয়েন্ট স্যান্ডেল পট্টি এলাকায় নামিয়ে দেওয়ার পর আবুল হোসেন লক্ষ্য করেন, যাত্রী অসাবধানতাবশত একটি ছোট হ্যান্ডব্যাগ রিকশায় ফেলে গেছেন।
ব্যাগটি খুলে তিনি দেখতে পান, এর ভেতরে একটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন, বাসার চাবি ও কিছু নগদ টাকা রয়েছে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও মালিকের সন্ধান না পেয়ে তিনি হতাশ না হয়ে ব্যাগটি প্রকৃত মালিকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এরপর স্থানীয় একজনের সহায়তায় তিনি রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সিটিটিসি ইউনিটের উপকমিশনারের (ডিসি) সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি জানার পর আরএমপি কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান ঘটনাটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে রিকশাচালককে দ্রুত আরএমপি সদর দপ্তরে নিয়ে আসার নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে আরএমপির মুখপাত্র ও উপকমিশনার (সিটিটিসি) মো. গাজিউর রহমান, পিপিএম-এর তত্ত্বাবধানে তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে অনুসন্ধান চালিয়ে ব্যাগটির প্রকৃত মালিককে শনাক্ত করা হয়। প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ যাচাই শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাগসহ মালামালগুলো তার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
হারানো প্রিয় জিনিস ও অর্থ ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত ওই নারী আরএমপি কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এদিকে রিকশাচালক আবুল হোসেনের সততা ও মানবিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে নগদ অর্থ পুরস্কার প্রদান করে আরএমপি প্রশাসন।
আরএমপি কর্তৃপক্ষ জানায়, “সচেতন নাগরিকদের এমন নৈতিক ও মানবিক আচরণ সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।”
বর্তমান সময়ে যখন অন্যের সম্পদ আত্মসাতের প্রবণতা বাড়ছে, তখন একজন শ্রমজীবী মানুষের এমন সততা আমাদের নতুন করে আশাবাদী করে তোলে। একই সঙ্গে পুলিশের পেশাদারিত্ব ও সেবামূলক মনোভাব নাগরিক আস্থাকে আরও সুদৃঢ় করেছে। এ ঘটনা সমাজে দীর্ঘদিন একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।














