সারাদেশ

রিসোর্টে ‘হামলা-শ্লীলতাহানি আ.লীগ নেতার’, ‘সহযোগিতা করেনি’ পুলিশ

  প্রতিনিধি ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ , ৮:১৬:৪৫ প্রিন্ট সংস্করণ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে রিসোর্টে হামলা ভাঙচুর, লুটপাট ও শ্লীলতাহানি ওরিসোর্টের মালিক-কর্মচারীদের মারপিট করে বের দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন রিসোর্টের নারী উদ্যোক্তা মোছা. লাবনী ইয়াছমিন। তিনি রাজধানীর মহাখালীর বাসিন্দা।

লাবনী ইয়াছমিন জানান, গত ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রিসোর্ট ব্যবসা পরিচালনার জন্য স্বামীর সাথে রিসোর্ট ব্যবসার জন্য শ্রীমঙ্গলের মোহাজিরাবাদ এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা ইউসুফ খা’র কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা দরে ৮৬শতাংশ জমি ২০ বছরের জন্য লিজ নেয়। প্রতি ৫ বছর পর পর লিজের টাকা পরিশোধ করার শর্ত রেখে একটি চুক্তিও সম্পাদিত হয়। এরপর প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ‘অরণ্যবাস ইকো রিসোটর্’ নামে একটি রিসোর্ট তৈরি করে পর্যটকদের ভাড়া দিয়ে আসছিলেন। তবে তৃতীয় দফার ১০ লক্ষ টাকার মধ্যে নির্ধারিত সময়ের ২ মাস পর স্থানীয় লোকজনদের মাধ্যমে ৬ লাখ টাকা ৫০ হাজার টাকা জরিমানাসহ পরিশোধ করা হয়। কিন্তু বাকি ৪ লাখ টাকা পরিশোধ করতে গেলে ভূমি মালিক শর্ত ভঙ্গের অজুহাতে টাকা নিতে অস্বীকার করে, এবং রিসোর্ট খালি করে দিতে চাপ সৃষ্টি করে।

এ নিয়ে গত ২৬ নভেম্বর ভূমি মালিক ইউসুফ খা রাজেস, মামনুসহ লোকজন নিয়ে রিসোর্টে গিয়ে রিসোর্ট খালি করে দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। এসময় দিতে অস্বীকার করলে রিসোর্টে হামলা ভাঙচুর ও মারপিট করে মালিক লাবনী ইয়াছমিন ও তার স্বামীকে জোর করে রিসোর্ট থেকে বের করে দেয়। এ নিয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় অভিযোগ করলে পুলিশের সহায়তায় তারা রিসোর্ট ফিরে পায়।

এ নিয়ে তৎকালীন শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেনের মাধ্যমে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে গেলে ইউসুফ খা টাকা না নিয়ে রিসোর্ট খালি করার দাবি করেন।

গত ২৪ জানুয়ারি শনিবার পুলিশ থানা থেকে ফোন করে রিসোর্টের অংশীদার স্বামী কামরুজামানকে থানায় ডেকে নেয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মৌলভীবাজার আদালতে পাঠায়। আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

লাবণী ইয়াছমিন জানান, স্বামীকে জেলে পাঠানোর পর তিনি জানতে পারেন জমির মাালিক তাদের দুজনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। পরদিন তারা জামিনে মুক্ত হন।

লাবনী অভিযোগ করেন, ‘গত ২৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জমির মালিক ইউসুফ খা ২৮-৩০ জন লোক নিয়ে ফের রিসোর্টে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়। এসময় তারা আমার জামা ধরে টানা-হেঁচড়া করে মাটিতে ফেলে পেটে ও শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে লাথি-কিল-ঘুষি, শ্লীলতাহানি ও রিসোর্টের স্টাফ সিয়ামকে বেধরক মারপিট করে, এতে সে আহত হয়। হামলাকরীরা রিসোর্ট থেকে ৫ লাখ টাকা ও জরুরি কাগজপত্রও ছিনিয়ে নেয়।’

তিনি বলেন, ‘পরে আমাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে রিসোর্ট থেকে জোর করে বের করে দেয়। এরপর ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে সাহায্য চাইলে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ এর নির্দেশানা অনুস্বরণ করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করি। কিন্তু অদ্যাবধি থানা পুলিশ অভিযোগ রেকর্ড না করে তালবাহানা করতে থাকে।’ পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেনি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

একদিকে আইনি সহায়তা না পাওয়া- অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের করা অভিযোগ অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে আমলে নিয়ে স্বামীকে জেলে নেওয়ায় শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন লাবনী।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে লাবণী বলেন, ‘রিসোর্টে প্রায় ৬০ লাখ টাকার বিনিয়োগ হারিয়ে তিনদিন ধরে এক কাপড়ে আমরা বিচার চেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছি। থানা পুলিশের সহায়তা না পেয়ে, এএসপি সার্কেল থেকে শুরু করে এসপি-ইউএনও পর্যন্ত সহায়তা চেয়েও কারো কোনো সহায়তা পাইনি।’

এদিকে জমির মালিক ইউসুফ খা আওয়ামী লীগ করার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার কাছে কাগজপত্র আছে-কাগজপত্র । আদালতে-থানায় মামলা দিছি -কোট এর সমাধান দেবে।’

জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘মারধরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে রিসোর্ট -মালিকানা আদালতের বিষয়, আদালত ফায়সালা দেবে।’

আরও খবর

Sponsered content