শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন

শতায়ু তফের আলীর মানবেতর জীবন, পাশে দাঁড়ালেন বিএনপি নেতা এম.এ মতীন

  মাহবুবুজ্জামান সেতু,নওগাঁ প্রতিনিধিঃ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ১:১৪:০০ প্রিন্ট সংস্করণ

নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের লক্ষ্মীরামপুর গ্রামের শতবর্ষী তফের আলী মণ্ডলের (১৩০) মানবেতর জীবনযাপন হৃদয় ছুঁয়ে গেছে অনেকের। হাড় জিরজিরে শরীর, নেই চলার শক্তি, মাথা গোঁজার মতো নেই উপযুক্ত ঠাঁই। সরকারি জমিতে মরিচধরা টিনের বেড়া ও ছাউনি দিয়ে বানানো একটি জরাজীর্ণ ঘরেই চলছে তার একাকী জীবন।

১১ সন্তানের জনক হলেও শেষ বয়সে কারো আশ্রয় পাননি তফের আলী। স্ত্রী বহু আগেই মারা গেছেন। সন্তানদের কেউ খোঁজ রাখছেন না। ছোট ছেলে আইনাল হকের কাছে কিছুদিন থাকলেও পুত্রবধূর অসহযোগিতায় সেখান থেকেও বের হয়ে আসতে হয় তাকে। এখন একটি রাস্তার ধারে স্যাঁতসেঁতে, অন্ধকার ঘরে দিন গুনছেন মৃত্যুর প্রহরে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার করুণ অবস্থার ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নজরে আসে মান্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম.এ মতীনের। গত শনিবার (৩০ আগস্ট) তিনি সরেজমিনে গিয়ে তফের আলীর অবস্থায় মর্মাহত হন। পরদিন (৩১ আগস্ট) তার জন্য পাকাঘর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। একইসঙ্গে ঘোষণা দেন, যতদিন তফের আলী বেঁচে থাকবেন তার খাবার, চিকিৎসা ও যাবতীয় খরচ তিনি নিজেই বহন করবেন।

আবেগাপ্লুত শতবর্ষী তফের আলী বলেন,“প্রতিদিন বাজারে গিয়ে ভিক্ষা করে খেতে হয়, অনেক দিন না খেয়েই দিন কেটে যায়। মৃত্যুর অপেক্ষায় আছি। হঠাৎ বিএনপির মতীন স্যার এসে ঘর, খাওয়ার ব্যবস্থা ও চিকিৎসার প্রতিশ্রুতি দিলেন—এটি সত্যিই কল্পনাও করিনি।”

ভালাইন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন,“সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবরটি দেখে এম.এ মতীন ভাই যে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন, এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।”

এম.এ মতীন বলেন,“ফেসবুক ও সংবাদমাধ্যমে বৃদ্ধ তফের আলীর করুণ অবস্থা দেখে আমি মর্মাহত হয়েছি। মানবতার ডাকে সাড়া দেওয়া প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। যতদিন তিনি বেঁচে থাকবেন, তার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।”

৮ ছেলে ও ৩ মেয়ে থাকলেও কেউ খোঁজ নেয় না তফের আলীর। এমনকি সন্তানদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন তিনি, যাতে অন্তত দু’বেলা খাবার ও থাকার জায়গা নিশ্চিত হয়।

ছেলে আইনাল হক অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,“আমাদের নিজেদেরই কষ্টের সংসার। ঘরে মাত্র তিনটি রুম—একটিতে আমি থাকি, একটিতে আত্মীয়রা, আরেকটিতে ছাগল। বাবার জন্য আলাদা ঘর নেই।”

স্থানীয়রা বলছেন, শতায়ু তফের আলীর করুণ জীবন আমাদের সমাজের চিত্র তুলে ধরে—যেখানে পরিবারের জন্য জীবন বিলিয়ে দেওয়া মানুষরাই শেষ বয়সে সবচেয়ে অবহেলিত হয়ে পড়েন। তবে এম.এ মতীনের মতো কিছু মানুষের সহানুভূতি ও উদ্যোগই হতে পারে এই অন্ধকার জীবনে একটুকরো আশার আলো।

আরও খবর

Sponsered content