নীলফামারী প্রতিনিধি | শাহজাহান আলী মনন ৫ জানুয়ারি ২০২৬ , ৮:৫০:৩৪ প্রিন্ট সংস্করণ
“হাসিনাই ঠিক ছিল, তাকেই ফিরিয়ে আনবো”—এমন মন্তব্য করে নীলফামারী-৪ আসন (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা মামুন অর রশিদ মামুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। চরম উত্তেজনাপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক বক্তব্যসম্বলিত একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল ভিডিওতে মামুন অর রশিদ মামুনকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করতে দেখা যায়। তিনি আসন্ন নির্বাচনকে ‘সাজানো’ ও ‘পাতানো’ বলে উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না এবং একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে জেতাতে প্রশাসনিক নকশা তৈরি করা হয়েছে।
ভিডিওর এক পর্যায়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের জন্য শেখ হাসিনাই ভালো ছিলেন এবং তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি আন্দোলনে নামবেন। বক্তব্যের সময় তাকে অত্যন্ত উত্তেজিত অবস্থায় দেখা যায়।
তিনি আরও দাবি করেন, এটি নীতি ও আদর্শবিহীন একটি ভাগ-বাটোয়ারার নির্বাচন হতে যাচ্ছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পরিবর্তনের আশায় জীবন ঝুঁকিতে রেখে আন্দোলন করলেও বর্তমান বাস্তবতায় তিনি চরমভাবে হতাশ।
নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে মামুন অর রশিদ বলেন, সরকার স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভয় পাচ্ছে বলেই তাদের নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। নিজের বক্তব্যের পরিণতি সম্পর্কে সচেতন থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সত্য কথা বলার জন্য যদি শাস্তিও পেতে হয়, তাতেও তিনি প্রস্তুত।
এ বিষয়ে মামুন অর রশিদ মামুন বলেন,
“আমরা নির্বাচন করতে চেয়েছি। কিন্তু রাষ্ট্র আমাদের সে সুযোগ দিচ্ছে না। এতে প্রমাণ হয়, একটি নির্দিষ্ট দলকে সামনে রেখে পাতানো নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার ফারহা ফাতেহা তাকমিলা বলেন,
“ভিডিওটি আমরা দেখেছি। তবে লিখিত অভিযোগ ছাড়া আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন। যেহেতু এটি একটি ভিডিও, সেটি এআই দিয়ে তৈরি কি না—তা যাচাই করা জটিল। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”
ভাইরাল ভিডিওটি ঘিরে মামুন অর রশিদ মামুনের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন এবং শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ।




















