সজিব উদ্দিন হেলাল, স্টাফ রিপোর্টার: ৬ নভেম্বর ২০২৫ , ২:১৮:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় শিয়ালের কামড়ে নারী-পুরুষসহ ১৬ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বিকেল থেকে বুধবার (৫ নভেম্বর) সকাল পর্যন্ত উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের শংকরসেনা ও টিকরিয়া (ফটকি) গ্রাম এবং সিন্দুরখান ইউনিয়নের সাইটুলা ও হুগলিয়া গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— টিকরিয়া ফটকি গ্রামের নাজমা বেগম (৪০), লুবনা বেগম (১৬), মো. আব্দুল জলিল (৪০), আব্দুল মোমেন (৩০), পিয়ারা বেগম (৬০); শংকরসেনা গ্রামের আমেনা বেগম (৩০), নুরে আলম ফেরদাউস (১৩), মামুন মিয়া (২৫), রাহিদ মিয়া (১০), রেহেনা আক্তার (২০), হোসাইন আহমদ (১৩), সুমন মিয়া (২৩), মো. আতিকুল (২১), নাঈম মিয়া (১৭); সাইটুলা গ্রামের রনি কুর্মি (২১) এবং হুগলিয়া গ্রামের সাজনা বেগম (৪৫)।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আহত সবাইকে হাসপাতালে এনে ভ্যাকসিনসহ প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুটি শিয়াল অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। হঠাৎ তারা গ্রামে ঢুকে পথচারীদের পা ও হাঁটুর নিচে কামড় দেয়। কেউ শিয়াল তাড়াতে গেলে ধস্তাধস্তিও হয়। ফটকি গ্রামে একটি শিয়ালকে স্থানীয়রা আটক করে পিটিয়ে হত্যা করলেও অপরটি পালিয়ে যায়।
আহত পিয়ারা বেগম বলেন,“সকালে উঠানে ঝাড়ু দিচ্ছিলাম, হঠাৎ শিয়াল এসে পায়ে কামড় দিয়ে পালিয়ে যায়।”
অন্য আহত ব্যক্তি মামুন মিয়া জানান,“রাতে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম, হঠাৎ শিয়াল এসে কামড় দেয়। কিছু সময়ের মধ্যেই গ্রামের আরও কয়েকজনকে কামড়ায়।”
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মৌমিতা বৈদ্য বলেন,“গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত শিয়ালের কামড়ে ১৬ জন রোগী হাসপাতালে আসে। সবাইকে চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন।”
স্থানীয়দের ধারণা, শিয়ালগুলোর মধ্যে এক বা একাধিকটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত হতে পারে। এ ঘটনায় গ্রামজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।





















