সারাদেশ

১ লাখ টাকায় ‘ট্রিপল মার্ডার’, কারাগারে বসেই পরিকল্পনা

  প্রতিনিধি ২৯ নভেম্বর ২০২৫ , ৮:২৯:৫৮ প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনায় চাঞ্চল্যকর শিশু ফাতিহা (৭) ও মুস্তাকিম (৮) এবং তাদের নানী মহিতুন্নেছা (৫৩) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, মাত্র এক লাখ টাকার বিনিময়ে এই ট্রিপল হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে খুলনা মেট্রেপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মো. সালেহ।

তিনি জানান, রূপসা আইচগাতী ইউনিয়ন ভবাণীপুর গ্রামে ১ একর ৬৯ শতক পৈত্রিক জমি নিয়ে শেফার আহমেদের সাথে তারই মামাতো ভাই শামীমের বিরোধ ছিল। আদালতে মামলাও চলছে। ২০০৩ সালে শামীম একটি অস্ত্র মামলার আসামি ছিলেন। এরপর তিনি ফ্রান্সে চলে যান। ২০১৭ সালে ফ্রন্স থেকে দেশে ফেরেন। এরপর তিনি ওই অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর ৮ মাস আগে জামিনে মুক্তি পান। কারাগারে বসেই শামীম তার ফুফাতো ভাই শেফারের পরিবারকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, অস্ত্র মামলায় কারাগারে থাকাকালে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে শামীমের। কারাগার থেকে বের হয়ে তিনি কারাগারে পরিচিত সন্ত্রাসীদের ১ লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়া করে পতিপক্ষ সেফার আহম্মেদের পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করেন।

গত ১৬ নভেম্বর দুপুর একটা থেকে দেড়টার মধ্যে শামীমের নেতৃত্বে ৭ জন লবণচরা এলাকার দরবেশ মোল্লা গলির শেফার আহমেদের বাড়ীতে প্রবেশ করে। দেওয়াল টপকে একজন ভেতরে প্রবেশ করে বাড়ির গেটটি খুলে দেয়। এরপর তারা বাড়িতে ডুকে একে একে তিনজনকে ইট দিয়ে থেতলে হত্যা করে মুরগীর খামারে রেখে দেয়। এরপর তারা শেফার আহম্মেদ ও তার স্ত্রী রুবি আক্তারকে হত্যা করার জন্য ওই বাড়িতেই অবস্থান করে। কিন্তু সেটি সফল করতে না পেরে তারা কৌশলে পালিয়ে যায়।

আবু রায়হান মো. সালেহ আরো জানান, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী শামীম আহম্মেদ ঘটনার দিন থেকে পলাতক ছিলেন। এর মধ্যে তিনি কৌশলে ফ্রান্সে পালানো চেষ্টাকালে গত ২৭ নভেম্বর রাত তিনটায় ঢাকার বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ মামলায় আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- লবণচরা থানার মোল্লাপাড়া এলাকার মো. আজহারুল ইসলাম আরজুর ছেলে তরিকুল ইসলাম তারেক (২৬)। তার বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা রয়েছে।

এছাড়া এ ট্রিপল হত্যা মামলায় একই থানার জিন্নাহপাড়া এলাকার মো. বাবুল হাওলাদারের ছেলে তাফসির হাওলাদারকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চুরি ও ছিনতাইয়ের দুটি মামলা রয়েছে।

এর মধ্যে শামীম আহমেদ শুক্রবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। জবানবন্দীতে শামীম বলেছে- হত্যা মিশন সফল হওয়ার পর তিনি ভাড়াটে খুনীদের এক লাখ টাকা পরিশোধ করেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনার পর ওই বাড়ি থেকে লুট হওয়া জমির দলিলপত্র ও স্বর্ণালংকার এখনও উদ্ধার হয়নি। তবে এ মামলার বাকি আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

আরও খবর

Sponsered content