প্রতিনিধি ২০ জুলাই ২০২৫ , ১২:৪৮:৩৬ প্রিন্ট সংস্করণ
বাড়িতে বসেই তৈরি করতেন প্রাণঘাতী মদ, ফার্মেসি সিলগালা করেছে পুলিশ
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা: খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানার বয়রা এলাকায় একদিনেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে ভেজাল মদ পানে—এটি অনেকটাই নিশ্চিত করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। এ ঘটনায় কথিত হোমিও চিকিৎসক শেখ মোসলেম আলি (৭৮)–কে আটক করেছে পুলিশ। তার তৈরি করা মদেই মৃত্যুগুলো ঘটেছে বলে পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে।
শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। শুক্রবার রাতে আরও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। নিহতদের সবাই গত কয়েকদিনে একই উৎস থেকে মদ পান করেছিলেন বলে জানা গেছে।
গ্রেপ্তার মোসলেম আলি নগরীর রায়ের মহল এলাকার বাসিন্দা। তিনি ‘মাতৃশোধন হোমিও ফার্মেসি’ নামের একটি হোমিওপ্যাথিক ওষুধের দোকান চালাতেন। পুলিশ জানায়, ফার্মেসির আড়ালে তিনি বাড়িতে বসেই বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান—এলকোলি জাতীয় মাদক, ঘুমের ওষুধ ও চুনের পানি—মিশিয়ে মদ তৈরি করতেন এবং তা স্থানীয়ভাবে বিক্রি করতেন।
এর আগেও মোসলেম আলিকে একই অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আবারও ওই কার্যক্রমে যুক্ত হন। শনিবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে আটক করে এবং তার ফার্মেসি সিলগালা করে দেয়।
ভেজাল মদ পান করে যাদের মৃত্যু হয়েছে—
তোতা মিয়া, খুলনা পাবলিক কলেজের দ্বিতীয় গেটের সামনে এলাকার বাসিন্দা (মৃত্যু: শুক্রবার রাত)
গৌতম, একই এলাকার বাসিন্দা (মৃত্যু: শনিবার সকাল)
সাহাবুদ্দিন সাবু, বয়রা শেরের মোড় এলাকার বাসিন্দা (মৃত্যু: শনিবার বিকেল)
আফরোজ হোসেন বাবু, বয়রা মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা
সাজ্জাদ, রায়ের মহল মল্লিক বাড়ির বাসিন্দা
সনু, বয়রা দাশপাড়া এলাকার বাসিন্দা—তিনি বর্তমানে আকিজ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. আবু তারেক বলেন, “মোসলেম আলি নিজের বাসায় বসে রাসায়নিক মিশিয়ে যে মদ তৈরি করতেন, সেটিই মৃত্যুর কারণ। পূর্ব বিল পাবলা এলাকার একটি ঘেরে বসে কয়েকজন একত্রে মদ পান করেন এবং এরপরই অসুস্থ হয়ে পড়েন।”
ঘটনার পরপরই পুলিশ মোসলেম আলিকে গ্রেপ্তার করে এবং তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে মাদক প্রস্তুত ও বিক্রির অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ধারায় মামলায় সংশোধন আনা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সচেতন মহল বলছে, স্থানীয় প্রশাসনের গাফিলতির কারণেই দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের মদ তৈরি ও বিক্রি চলছিল। দ্রুত বিচার এবং কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়রা।





















