অপরাধ

চট্টগ্রামে অস্ত্র চোরাচালান পুনরায় সক্রিয়: ১৫ মাসে অন্তত ৫০ হত্যাকাণ্ড, উদ্ধার শতাধিক অস্ত্র

  চট্টগ্রাম: ১২ নভেম্বর ২০২৫ , ৭:৫৯:০৮ প্রিন্ট সংস্করণ


রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সীমান্তে নজরদারির দুর্বলতার সুযোগে চট্টগ্রামে অস্ত্র চোরাচালান চক্র আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে; ফলে সহিংসতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ১৫ মাসে নগর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৫০টি হত্যা ঘটেছে বলে থানাদি ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে — সেই সকল ঘটনায় অধিকাংশেই ব্যবহৃত হয়েছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র। সর্বশেষ ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগে নিহত হন সরোয়ার হোসেন বাবলা, যা অবৈধ অস্ত্র ইস্যু আবারও সামনে এনেছে।

শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নানান অভিযানেও পুরনো এবং বৈচিত্র্যময় অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে। রাউজান ও আশপাশের এক অভিযানে ৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, শতাধিক গোলা–কার্তুজ ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। গত এক বছরে জেলায় মোট ৪৩৪টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং দুটি দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারখানা ধ্বংস করা হয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্যে দেখা গেছে, উদ্ধার হওয়া অনেক অস্ত্রের ব্যালিস্টিক পরীক্ষায় পুরনো অপরাধ মামলার সঙ্গে মিল পাওয়া গিয়েছে। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে—অস্ত্রগুলো একবার ব্যবহার হওয়ার পর পুনরায় সংস্কার করে আন্ডারওয়ার্ল্ডে ফের বিক্রি করা হচ্ছে; নতুন সরবরাহ থেমে গেলেও পুরনো অস্ত্রের রিসাইক্লিংয়ের ফলে সহিংসতার চক্র টিকে আছে।

র‌্যাব চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধিনায়ক লে. কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, “আমরা যে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করছি, সেগুলো নতুনভাবে দেশে আনা হয়নি; বেশিরভাগই পুরনো — কিছু অস্ত্র এক দশকেরও বেশি পুরনো। এর মানে বহুদিন ধরে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র অপরাধীদের হাতে ঘুরছে।”

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ বলেন, “সাধারণ ধারণা হলো এসব অস্ত্র পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র গোষ্ঠী কিংবা সীমান্ত সীমঙ্গল থেকে আসে; স্থানীয় অপরাধীরা প্রয়োজনমত কিনে নেয় বা পাহাড়ে লুকিয়ে রাখে। আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে উদ্ধার ও গ্রেপ্তার কার্যক্রম চালাচ্ছি।”

বিশেষভাবে চিহ্নিত রাউজান উপজেলাটিকে খুনের ‘হটস্পট’ বলা হচ্ছে — গত ১৩ মাসে সেখানে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় তদন্তকারীরা জানান, সাম্প্রতিক কিছু হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলোর মধ্যে চারটি আমেরিকান পিস্তলও পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে দুটির আগে পুলিশ ইস্যুকৃত বলে হারানো-রিপোর্ট ছিল। তদন্তে এসব অস্ত্রের পুরাতন মামলা-মামলার সাথে যোগসাজশ মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে—সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অস্ত্রবাজারে নিয়মিত তল্লাশি, আর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রেডি-অপারেশন হলে চোরাচালান চক্রের কার্যক্রম অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন—রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কেন্দ্রীয় সমন্বয় ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য সম্ভব নয়।

আরও খবর

Sponsered content