তথ্যপ্রযুক্তি

তারাগঞ্জে সরকারি ওষুধ চুরি: স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর

  মোঃ আলমগীর হোসেন লেবু, বিশেষ প্রতিনিধি ১৮ অক্টোবর ২০২৫ , ৭:৫৫:০৯ প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে সরকারি ওষুধ চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হামদুল্লাহর ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি অভিযুক্ত ফার্মাসিস্টকে বাঁচাতে কৌশলে প্রকৃত আসামির নাম এজাহার থেকে বাদ দিয়েছেন এবং বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করছেন।

গত বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে তারাগঞ্জ উপজেলার পুরাতন হাসপাতাল সংলগ্ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত ফার্মাসিস্ট তানভীর ইকতিয়ার বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ পাচারের সময় স্থানীয়দের হাতে আটক হন। স্থানীয়রা জানান, তিনি অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যথানাশক, গ্যাসের ওষুধ ও ভিটামিন জাতীয় সরকারি ট্যাবলেট ব্যাগ ভর্তি করে পাচার করছিলেন। এ সময় তার সহযোগী সজীবসহ দুজনকে হাতে–নাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, জনতার হাতে আটক হওয়া সত্ত্বেও ঘটনাটিতে মূল আসামি তানভীর ইকতিয়ারের নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এতে এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে প্রভাব খাটিয়ে ভিন্নখাতে মোড় ঘোরানো হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ— “স্থানীয় প্রভাব ও টাকার লেনদেনের মাধ্যমে মূল আসামি তানভীরকে বাঁচানো হয়েছে।”

এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হামদুল্লাহ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ফার্মাসিস্ট তানভীরকে থানায় আটক হওয়ার পরও তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে এসেছেন এবং তার বিরুদ্ধে মামলা না করতে পুলিশকে ‘প্রভাবিত’ করেছেন।

এ বিষয়ে ডা. হামদুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন— “ফার্মাসিস্ট সরাসরি জড়িত কিনা তা যাচাই না করে মন্তব্য করা ঠিক নয়। দোষী প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি প্রকৃত অপরাধীকে রক্ষা করছেন এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য— “সরকারি ওষুধ সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য দেওয়া হয়। অথচ তা ব্যক্তিগত লাভের জন্য পাচার করা হচ্ছে—এটি দুঃখজনক। তদুপরি একজন সরকারি দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যদি অভিযুক্তকে বাঁচানোর ভূমিকা নেন, তবে তা আরও নিন্দনীয়।”

এলাকার মানুষের দাবি, ঘটনার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে  প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ।

সরকারি ওষুধ চুরির ঘটনাটি এখন ব্যক্তিগত অপরাধের গণ্ডি পেরিয়ে প্রশাসনিক নীতিনৈতিকতার প্রশ্নে রূপ নিয়েছে। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত না হলে তারা বড় ধরনের আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।

আরও খবর

Sponsered content