গাজীপুর প্রতিনিধি: ৯ নভেম্বর ২০২৫ , ৭:০৫:৫৭ প্রিন্ট সংস্করণ
গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানায় দায়ের করা এক অভিযোগে এমন একজন ব্যক্তির নাম আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—বিদেশে অবস্থানরত একজন ব্যক্তি কীভাবে দেশে সংঘটিত হামলার ঘটনায় জড়িত হতে পারেন?
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর পূর্ব আরিচপুর বৌ বাজার গাজীবাড়ি মোড় এলাকায় অবস্থিত মাদ্রাসাতুর রহমাহ আল-আরাবিয়া মাদ্রাসা-য় গত ১৪ অক্টোবর রাতে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। ওই রাত সাড়ে ১১টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে মাহফিলস্থলে হামলা চালায়। এতে অন্তত চার-পাঁচজন বলনডিয়া ও দর্শনার্থী আহত হন।
আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার পর মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মাওলানা লুৎফুর রহমান টঙ্গী পূর্ব থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে বলা হয়, “বিবাদী সাফওয়ানসহ ১০-১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি মাহফিলে হামলা চালিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।” তবে যাঁর নাম প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই সাফওয়ান ২০২১ সালের মার্চ মাস থেকে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিচিতজনেরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাফওয়ান সৌদি আরবের একটি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কর্মরত এবং ওই সময় থেকে তিনি দেশে ফেরেননি। ফলে এই ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
সৌদি আরব থেকে যোগাযোগ করা হলে সাফওয়ান বলেন, “আমি ২০২১ সালের মার্চ থেকে সৌদি আরবে আছি। দেশে কী ঘটেছে, তা সামাজিক মাধ্যমে জেনেছি। আমি চাই এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। যারা ভিত্তিহীনভাবে আমার নাম অভিযোগে যুক্ত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
অভিযোগকারী মাওলানা লুৎফুর রহমান বলেন, “আমাদের মাহফিল চলাকালে কিছু লোক এসে হামলা চালায়। এতে কয়েকজন বলনডিয়া আহত হন। আমরা ভয়ভীতিতে আছি, তাই থানায় অভিযোগ করেছি।”
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, “অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। যাদের নাম এসেছে, তাদের অবস্থান ও ঘটনার সময়কার উপস্থিতি যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে অবস্থানরত কারও নাম যদি অভিযোগে আসে, তাহলে তদন্ত পর্যায়ে পুলিশ তার অবস্থান ও প্রমাণ যাচাই করে। প্রমাণিত হলে নাম বাদ দেওয়া হয়, অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ বলছেন, “বিদেশে থাকা ব্যক্তির নামে অভিযোগ দায়ের করা প্রশ্নবিদ্ধ”, আবার অনেকে মনে করছেন, “সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে।”




















