অপরাধ

দুদকের নজরদারিতে ৩৬তম বিসিএস কর্মকর্তা তানজিনা সাথী: পাঁচ বছরে কোটিপতি

  দৈনিক মতপ্রকাশ প্রতিবেদকঃ ১০ নভেম্বর ২০২৫ , ১১:৩৫:৫৭ প্রিন্ট সংস্করণ


৩৬তম বিসিএসের কর্মকর্তা মোসা. তানজিনা সাথী। ২০১৮ সালে যোগদানের পর মাত্র পাঁচ বছরের মাথায় অস্বাভাবিক সম্পদশালী হয়ে ওঠায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নজরদারিতে আছেন তিনি। ২০২৩ সাল থেকে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হলেও অজানা কারণে তদন্তে গতি নেই। বরং তদন্ত চলাকালীনই পদোন্নতি পেয়েছেন তিনি—যা বিশেষ তদবিরে হয়েছে বলে অভিযোগ।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, উপ কর-কমিশনার তানজিনা সাথী তার এক বন্ধুর বাসায় কোনো লিখিত প্রমাণ বা চুক্তি ছাড়াই ৬২ লাখ টাকা রেখেছিলেন। এ বিষয়ে একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে তিনি নিজেই অর্থ রাখার বিষয়টি স্বীকার করেন।

তানজিনার সম্পদ নিয়ে তদন্তে দেখা গেছে—তার বাবা-মায়ের নামে কোটি টাকার সম্পদ যুক্ত হয়েছে চাকরিতে যোগদানের পরপরই। ২০২১-২২ অর্থবছরে তার বাবা মো. মোশারফ হোসেন মল্লিকের নামে প্রায় ৫ কোটি টাকার সম্পদ দেখিয়ে ট্যাক্স ফাইল খোলা হয়। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা মা মিসেস রানী বিলকিসের নামে রয়েছে ৩ কোটি টাকার বেশি সম্পদ, যার মধ্যে ৩৮০ ভরি স্বর্ণ এবং রূপগঞ্জে সাড়ে ১৭ কাঠার একটি প্লট অন্তর্ভুক্ত। তানজিনার নিজের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি টাকার কাছাকাছি।

দুদক সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে প্রায় ২ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবুও ডিক্লারেশন চাওয়ার বা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “তদন্ত চলাকালীন এমন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকলেও নৈতিক দায়িত্ব ছিল তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া।”

সূত্র জানিয়েছে, সাবেক সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রভাবশালী কর্মকর্তা এবং তানজিনার এক আত্মীয়ের তদবিরেই তদন্ত প্রক্রিয়া থেমে আছে। এছাড়া তিনি অতীতে সাবেক পিএসসি সদস্য আনোয়ারা বেগমের বোর্ডে ভাইবা দিয়ে চাকরি পান—যিনি সম্প্রতি দুর্নীতির মামলায় আটক হন।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, “তদন্তের কাজ শেষ পর্যায়ে। কিছু দিনের মধ্যেই প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়া হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তানজিনা সাথী দৈনিক মতপ্রকাশ-কে বলেন, “অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ মিথ্যা। আমার পরিবারের আর্থিক অবস্থা আগেই ভালো ছিল। চাকরির সময় ঠিকানার ভিন্নতা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।”

আরও খবর

Sponsered content