রেজাউল ইসলাম , বিশেষ প্রতিবেদক ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৮:১০:৪২ প্রিন্ট সংস্করণ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে উদ্ধার হওয়া কয়েকশ কোটি টাকার চেক ও তদবির বাণিজ্যের তথ্য নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এসব আর্থিক লেনদেন ও দালালি কার্যক্রমের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন চিশতী টেক্স -এর মালিক ইশতিয়াক লোদী।
দৈনিক মতপ্রকাশের হাতে আসা তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ইশতিয়াক লোদী বিভিন্ন তদবির বাণিজ্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি ও পুনর্বহাল সংক্রান্ত কাজে সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই তদবির নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই মোঃ বশির উদ্দিন তার ভায়রা, ভুমি মন্ত্রণালয়ের বহিষ্কৃত সার্ভেয়ার মোস্তাফিজুর রহমানের চাকরি পুনরুদ্ধারে কয়েক কোটি টাকার চুক্তি করেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, এই চুক্তির অংশ হিসেবে ইশতিয়াক লোদী ও মোঃ বশির উদ্দিনের নামে ইস্যুকৃত একাধিক চেক উদ্ধার করা হয়েছে শ্যুটার ফয়সালের বোনের বাসা থেকে—যা হাদি হত্যাকাণ্ডের আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়। এসব চেকের টাকার অঙ্ক একাধিক ক্ষেত্রে কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
উদ্ধারকৃত চেকগুলো পর্যালোচনা করে দৈনিক মতপ্রকাশ দেখতে পায়,
চিশতী টেক্স , মোঃ বশির উদ্দিন, এমডি মোস্তাফিজুর রহমান, এমআর ইন্টারন্যাশনাল ও এমএএম ইমপেক্স নামধারী একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের চেক উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে এমএএম ইমপেক্স -এর নামে ৫ কোটি টাকার চেক তদন্তকারীদের বিশেষভাবে ভাবাচ্ছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো— চিশতী টেক্সের মালিক ইশতিয়াক লোদী নিজেই ফয়সালের দুলাভাই মুক্তি মাহমুদের সঙ্গে তদবির বাণিজ্যে দালালি করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে দৈনিক মতপ্রকাশ। এই সংক্রান্ত ফোনালাপের অডিও রেকর্ড দৈনিক মতপ্রকাশের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং উদ্ধারকৃত চেকের মাঝে চিশতী টেক্সের চেকের সংখ্যাই সবেচেয়ে বেশি ।
গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এই পরিমাণ অর্থ, তদবির বাণিজ্য এবং সরকারি চাকরি পুনর্বহালের চুক্তির যোগসূত্র পাওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এতে প্রশ্ন উঠছে— এই অর্থ কি শুধু হাদি হত্যার পেছনে ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল, নাকি হত্যাকাণ্ডটি ছিল বৃহত্তর আর্থিক ও প্রভাব খাটানোর নেটওয়ার্কের একটি অংশ?
ডিএমপির মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, উদ্ধারকৃত চেক, আর্থিক লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যাদের নামে চেক ইস্যু হয়েছে এবং যারা তদবির বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের ভূমিকা আলাদাভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।
প্রধান আসামিরা এখনও পলাতক থাকলেও তদন্তে স্পষ্ট হচ্ছে, হাদি হত্যাকাণ্ড শুধু একটি বিচ্ছিন্ন সহিংস ঘটনা নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন, তদবির বাণিজ্য এবং প্রভাবশালী নেটওয়ার্কের ছায়া—যার কেন্দ্রে এখন চিশতী টেক্সের মালিক ইশতিয়াক লোদীর নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।
তদন্তের বড় প্রশ্ন এখন একটাই— এই তদবির ও অর্থের জাল কোথায় গিয়ে শেষ হয়, আর হাদি হত্যাকাণ্ড ছিল কি সেই জালের একটি মাত্র অধ্যায়?




















