সারাদেশ

আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে এমপির ভুরিভোজ ঘিরে বিজয়নগরে আলোচনা-সমালোচনা

  শাহনেওয়াজ শাহ, বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ৩ মে ২০২৬ , ৯:৪৯:৪৬ প্রিন্ট সংস্করণ

 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম. অলি আহম্মেদের বাড়িতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক ভুরিভোজকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি এ আয়োজনের ছবি ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২ মে) ছেলের বিয়ে উপলক্ষে উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে এ ভোজের আয়োজন করেন আওয়ামী লীগ নেতা এম. অলি আহম্মেদ। অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ছাড়াও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল বলে জানা গেছে।

আয়োজকদের দাবি, এটি ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও সামাজিক অনুষ্ঠান। এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির সম্পৃক্ততা ছিল না।

তবে ঘটনাটি ঘিরে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতাকর্মীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এ নিয়ে সমালোচনা করেছেন।

বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রিয়ান চৌধুরী রাসেল এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা রিয়াদ যুবদল (সৌদি আরব) শাখার যুববিষয়ক সম্পাদক ও বিজয়নগর উপজেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মোনায়েম মুন্না ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

মোনায়েম মুন্না মুঠোফোনে বলেন, “২০১১ সাল থেকে আওয়ামী লীগের নেতাদের কারণে বাড়িতে থাকতে পারিনি। এখন বিএনপির নেতারা সেই আওয়ামী লীগ নেতাদের পুনর্বাসিত করছেন। এ কারণেই আমি পদত্যাগ করেছি।” তিনি আরও জানান, আরও কয়েকজন নেতাকর্মী পদত্যাগ করতে পারেন।

এ বিষয়ে এম. অলি আহম্মেদ বলেন, “ভুটান ও বাংলাদেশে আমার অ্যালুমিনিয়ামের ব্যবসা রয়েছে। ব্যবসায়িক কারণে শ্যামল সাহেবের সঙ্গে আমার পূর্ব পরিচয় আছে। স্থানীয় এমপি হিসেবে বড় ছেলের বৌভাতে তাকে দাওয়াত দিয়েছি। তিনি দাওয়াত গ্রহণ করেছেন। আমি আগে আওয়ামী লীগ করলেও বর্তমানে কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নই।”

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে বিভ্রান্তি ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। তাই জনপ্রতিনিধিদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আরও সংবেদনশীল ও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content