প্রতিনিধি ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৭:২৭:৫৩ প্রিন্ট সংস্করণ
মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া) আসনের নির্বাচনী মাঠে ভাতিজার পর এবার চাচার মনোনয়ন পত্র সংগ্রহকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও একাধিক প্রার্থীর অংশগ্রহণে আসনটির নির্বাচনী পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন পাঁচবারের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল হাইয়ের ছোট ভাই ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন। তিনি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুহাম্মাদ মুছাব্বেরুল ইসলামের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
এর আগে রোববার (২১ ডিসেম্বর) একই আসনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন আব্দুল হাইয়ের বড় ছেলে ইফতেখারুল আলম রিপন। ফলে একই পরিবারের চাচা ও ভাতিজা দু’জনই মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন সংগ্রহ করলেন।
অন্যদিকে, এ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সমাজকল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন। তবে শুরু থেকেই তার মনোনয়নের বিরোধিতা করে আসছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিনের সমর্থকরা।
জানা যায়, মনোনয়ন না পাওয়ায় গত ৫ ডিসেম্বর সদর উপজেলার রসুলপুর এলাকায় মহিউদ্দিনপন্থী নেতাকর্মীরা মশাল মিছিল বের করেন। একই দিন বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জামালদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কামরুজ্জামান রতনের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে আয়োজিত মশাল মিছিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে মহিউদ্দিনপন্থী অন্তত ছয়জন আহত হন।
এরপর থেকে সদর উপজেলায় মহিউদ্দিনপন্থীরা ধারাবাহিক ভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার বিকেলে সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নে দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ওই দিন বিকেলে চরকেওয়ার ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে পৌরসভার মুন্সীরহাট বাজারের একটি কমিউনিটি সেন্টারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিল শেষে কয়েক শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী মুন্সীরহাট বাজারে শোডাউন করেন। তারা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া মহিউদ্দিন পন্থীরা তার নামে স্লোগান দিলে রতনপন্থীরাও পাল্টা স্লোগান দেন। এতে এলাকায় ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৪৬৩ জন এবং গজারিয়া উপজেলায় ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ৪২০ জন।
সাধারণ ভোটাররা জানান, গজারিয়া উপজেলায় বিএনপির দলীয় প্রার্থী কামরুজ্জামান রতনের বাড়ি। একই উপজেলার বাসিন্দা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী প্রফেসর মো. আবু ইউসুফও। গজারিয়া উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। অপরদিকে সদর উপজেলায় বাড়ি চাচা মো. মহিউদ্দিন ও ভাতিজা ইফতেখারুল আলম রিপনের, যেখানে ভোটার সংখ্যা সাড়ে তিন লাখেরও বেশি।
এমন বাস্তবতায় শেষ পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি তাদের জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবে কি না তা নিয়ে ভোটারদের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যেও নানা প্রশ্ন ও জল্পনা-কল্পনা চলছে।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের দুঃশাসনের ১৭ বছরে তিনি অসংখ্য মামলার আসামি হয়ে পলাতক জীবন কাটিয়েছেন এবং একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন।’ এরপরও তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন বলে দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘নেতাকর্মীরা আমাকে চায়। সে কারণেই আমি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে আসার পর আমাকে যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমি সেটিই মেনে নেব।’
অন্যদিকে দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী কামরুজ্জামান রতন বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, জিয়া পরিবার আমার ওপর আস্থা রেখেছে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করি। মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শিষের বিজয় নিশ্চিত করতে সকল নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই।’




















