সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা: ৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ১০:৫৮:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ
নেত্রকোনা পৌরশহরের বাহিরচাপড়া এলাকায় অন্যের জমি দখল করে রাতারাতি ঘর নির্মাণ করে সেখানে বাউল সাধকের ব্যানার টানানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জমির মালিক দাবি করা পার্শ্ববর্তী বালুয়াখালি গ্রামের মাহমুদা আক্তার (৩৫) থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি ওই গ্রামের মৃত জামাল উদ্দিনের মেয়ে।
অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন—বাহিরচাপড়া গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর মো. আমির বাশার (৫৫), তার ভাই মো. এমরান বাশার (৪৫), মো. শফিকুল ইসলাম (৫০), মো. খাইরুল মিয়া (৪০), মো. সাজ্জাদুল (৩৮) ও মো. সোহরাব (৪৫)।
মাহমুদা আক্তার অভিযোগে জানান, বাহিরচাপড়া এলাকায় তার পৈত্রিক এক একর ১৫ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তরা দখলের চেষ্টা করে আসছেন। গত ২৯ ডিসেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে ভ্যাকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে সড়কের পাশে ভরাট করা হয়। পরে আগে থেকেই তৈরি করে রাখা দুটি ঘর এনে সেখানে স্থাপন করা হয়। ঘরের সামনে বাউল সাধকের ব্যানার টানিয়ে জায়গাটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়।
তিনি আরও জানান, পরদিন বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের খুন-জখমের হুমকি দেন। এ ঘটনায় পরদিন তিনি নেত্রকোনা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী মাহমুদা আক্তার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক আমাদের পৈত্রিক জমি দখলের চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি মালিকানা দাবি করে আমাদের সম্পূর্ণ বেদখলের চেষ্টা করছে তারা। এতে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
তার ভাই সজিব তালুকদার বলেন, “জমিটির সিএসসহ সব বৈধ কাগজপত্র আমাদের নামে রয়েছে। কিন্তু তারা জোর করে দখল নিয়ে মালিকানা দাবি করছে। সড়কের পাশে রাতারাতি মাটি ভরাট করে ঘর তুলে বাউলের আস্তানা বলে ব্যানার টানিয়েছে। একটি স্পর্শকাতর বিষয়কে দখলের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।”
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলা শহরের পূর্ব পাশে নেত্রকোনা–মোহনগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে সদ্য ভরাট করা জমির ওপর দুটি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এর একটিতে বাউল সাধক রশিদ উদ্দিনের স্মরণসভা উপলক্ষে একটি বড় ব্যানার টানানো রয়েছে। ব্যানারে আগামী ১৯ ও ২০ জানুয়ারি স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল মিয়া ও কামরুল হাসান বলেন, “কয়দিন আগেও এখানে কোনো ঘর ছিল না। জায়গাটি ছিল গভীর গর্ত। হঠাৎ এক রাতে ভ্যাকু দিয়ে মাটি ভরাট করে দ্রুত ঘর বানানো হয়েছে। দখল পাকাপোক্ত করতেই বাউলের আস্তানা দেখিয়ে ব্যানার টানানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে বাহিরচাপড়া গ্রামের বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কৃষকদলের সভাপতি রতন মিয়া বলেন, “জায়গাটি দীর্ঘদিন আমির ও এমরান বাশারদের দখলে থাকলেও তাদের কোনো বৈধ কাগজ ছিল না। কয়েক বছর আগে সালিশে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তারা কিছু জায়গা টাকা দিয়ে কিনবেন। কিন্তু সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। তবে কয়দিন আগেও সেখানে কোনো ঘর ছিল না।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত এমরান বাশার বলেন, “এই জমিতে মাহমুদাদের কোনো অংশ নেই। আমরা প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে জমিটি কিনেছি এবং ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে দখলে আছি। রেকর্ডের কিছু ত্রুটি সংশোধনের জন্য আদালতে মামলা চলছে। এখানে রাতারাতি ঘর তোলা হয়নি। আগে থেকেই ঘর ছিল। বাউল সম্রাট রশিদ উদ্দিনের আত্মীয়দের কাছ থেকে জায়গা কেনা হয়েছে বলেই একটি ঘর তাঁর স্মরণে রাখা হয়েছে।”
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) নেত্রকোনা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আকমল হোসেন বলেন, “বিষয়টি সমাধানে দুই পক্ষকে আলোচনায় বসার কথা বলা হয়েছে। আলোচনায় সমাধান না হলে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




















