মো: সাকিব চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার ১০ জানুয়ারি ২০২৬ , ৪:২৬:১৩ প্রিন্ট সংস্করণ
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ পুলিশ দলীয় পুলিশ হিসেবে গড়ে উঠেছিল। এ সময় বাহিনীর ভেতরে নানা ধরনের বিচ্যুতি তৈরি হয়েছিল এবং অনেক ক্ষেত্রে গণবিরোধী কর্মকাণ্ডও সংঘটিত হয়েছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, “জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত দুঃখজনক ঘটনায় বিপুল সংখ্যক আন্দোলনকারী প্রাণ হারিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন। কিছু লোভী ও দলকানা নেতৃবৃন্দ এবং সদস্যদের কর্মকাণ্ডের কারণে পুলিশের ওপর যে দায়ভার এসেছে, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশ পুলিশকে আবার স্বমহিমায় দাঁড় করানো এবং সদস্যদের মনোবল ফিরিয়ে আনার চেষ্টা আমরা গত এক বছর ধরে করে যাচ্ছি। আমরা শতভাগ সফল হয়েছি—এ কথা বলবো না, তবে আমাদের চেষ্টার কোনো ঘাটতি নেই।”
তিনি আরও বলেন, শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যু পুরো জাতিকে নাড়া দিয়েছে এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দায়ভার পুলিশের ওপর বর্তেছে। “খুলনা অঞ্চলে সংঘটিত বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশই আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি, যা আমাদের সক্ষমতার প্রমাণ,”—বলেন তিনি।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, “শতভাগ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ পৃথিবীর কোনো দেশেই সম্ভব নয়। আমাদের দেশের গত ১০-১৫-২০ বছরের অপরাধ পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রতিবছর গড়ে সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার হত্যাকাণ্ড ঘটে। আমাদের লক্ষ্য থাকবে—একজন মানুষও যেন নিহত না হয়।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে বাহারুল আলম বলেন, আইনশৃঙ্খলা স্থিতিশীল রাখা এবং নির্বাচন উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব। এ কাজে শুধু বাংলাদেশ পুলিশ নয়, আনসার সদস্য, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ডসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও যুক্ত থাকবে।
তিনি বলেন, “পুলিশের মনোবল শক্ত রাখতে সমাজের সমর্থন প্রয়োজন। কোনো অপরাধী গ্রেপ্তারের পর যদি থানায় ঘেরাও দেওয়া হয় বা তাকে ছেড়ে দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। ন্যায়সংগত কাজ করতে আমাদের কর্তৃত্ব ও সহযোগিতা প্রয়োজন। অন্যায় করলে অবশ্যই আমাদের জবাবদিহির আওতায় আনবেন, কিন্তু ন্যায় কাজটি করতে দিন।”
এর আগে আইজিপি রংপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড অডিটোরিয়ামে রংপুর রেঞ্জের বিভিন্ন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি বিশেষ কল্যাণ সভায় অংশ নেন।




















