সারাদেশ

কুমারখালীতে সাউন্ডবক্স নিষিদ্ধের ঘোষণা, দাফন বন্ধের হুঁশিয়ারিতে ক্ষোভ

  হৃদয় রায়হান, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি ৪ এপ্রিল ২০২৬ , ৭:৪৯:৪৯ প্রিন্ট সংস্করণ

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের বড় মাজগ্রামে সাউন্ডবক্স ও মাইকে গান-বাজনা নিষিদ্ধ করে মাইকিং করার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি নির্দেশনা অমান্য করলে সামাজিকভাবে বয়কট এবং কবরস্থানে দাফন না করার মতো ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিনব্যাপী বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে প্রচার মাইকিংয়ের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামজুড়ে এক ধরনের নীরবতা বিরাজ করছে। জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিরা বাড়ি ফিরছেন, আর মসজিদের বারান্দায় বসেছে আলোচনা সভা।

মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা ওয়ালীউল্লাহ ফরিদী জানান, গত ২৭ মার্চ জুমার নামাজ শেষে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়—মহল্লার কোনো বাড়িতে সাউন্ডবক্স বা মাইক বাজানো হলে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে ঈদগাহ, মসজিদ ও কবরস্থানের কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হবে। তিনি বলেন, উচ্চশব্দের কারণে অসুস্থ ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ কুরবান আলী বলেন, বিয়ে বা খতনা অনুষ্ঠানে উচ্চশব্দের কারণে নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত ও অসুস্থদের সমস্যা হয়। তাই সবার সম্মতিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট স্থানে প্যান্ডেল করে অনুষ্ঠান করলে কোনো আপত্তি নেই বলেও তিনি জানান।

এ ঘটনার সূত্রপাত হয় স্থানীয় এক খতনা অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্স ব্যবহারের জেরে। জানা গেছে, জমারত আলী ও রুপা খাতুন দম্পতি তাদের এতিম নাতির খতনা উপলক্ষে বাড়িতে সাউন্ডবক্স বাজান। মুসল্লিদের আপত্তির মুখে তা বন্ধ করা হলেও পরবর্তীতে এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং পরদিন বৈঠকে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে রুপা খাতুন বলেন, “আমরা শুধু একদিন বক্স বাজিয়েছি, নামাজ ও আজানের সময় বন্ধ রেখেছিলাম। তবুও কিছু মানুষ শত্রুতা করে বিষয়টিকে বড় করেছে।”

বৃহস্পতিবার দুপুরে মাইকিংয়ের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, দেশের প্রচলিত আইনে এভাবে গান-বাজনা নিষিদ্ধ করা বা সামাজিক বয়কটের ঘোষণা দেওয়ার সুযোগ নেই। অতিরিক্ত শব্দ হলে তা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভূমিকা থাকা উচিত।

কুমারখালীর সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কবি ও নাট্যকার লিটন আব্বাস বলেন, “প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব স্বাধীনতা আছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে না। বিষয়টি প্রশাসনের দেখা উচিত।”

তবে বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদের সভাপতি আমির হোসেন বলেন, সব ধরনের গানবাজনা নয়, শুধু উচ্চশব্দে সাউন্ডবক্স ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মাইকিংয়ে ঠিক কী প্রচার হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, দেশের আইনে এভাবে গানবাজনা নিষিদ্ধ করার সুযোগ নেই। আর জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও খবর

Sponsered content