সোহেল খান দূর্জয়- নেত্রকোনা : ৩ মে ২০২৬ , ৯:৪২:৪৩ প্রিন্ট সংস্করণ
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির জেরে ওয়াহিদুল ইসলাম কেলিস নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মূল ঘাতক নূর মোহাম্মদসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত ওয়াহিদুল ইসলাম কেলিস দুর্গাপুর পৌর শহরের তেরী বাজার এলাকার মৃত আব্দুল মৃধার ছেলে।
রোববার (৩ মে) দুপুরে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক কারণ ও গ্রেপ্তারের বিস্তারিত তথ্য জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুর্গাপুর পৌরশহরের তেরী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কেলিসের বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩২ বছর এবং অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদের বয়স প্রায় ২০ বছর।
ওসি জানান, কেলিস ও নূর মোহাম্মদ একসময় একসঙ্গে চলাফেরা করতেন এবং মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত ছিলেন। নূর মোহাম্মদের ভাষ্যমতে, তিনি সম্প্রতি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নিহত কেলিস তাকে আবারও পুরনো পথে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
এ নিয়ে শনিবার রাতে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কেলিস তাকে মারতে এলে নূর মোহাম্মদ ক্ষিপ্ত হয়ে দেশীয় ছুরি দিয়ে তার পেটে আঘাত করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা কেলিসকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর রাতেই অভিযান শুরু করে দুর্গাপুর থানা পুলিশ। নিহতের স্ত্রীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে নূর মোহাম্মদের মা নূরনাহার এবং তার ভগ্নিপতি মাজেদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাজেদুল সম্পর্কে নূর মোহাম্মদের ফুফাতো ভাই।
পরে গোপন তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে, মূল ঘাতক নেত্রকোনা শহরের মালনী রোড এলাকায় তার ভগ্নিপতির বাড়িতে আত্মগোপন করেছেন। রাতভর অভিযান চালিয়ে রোববার ভোরে সেখান থেকে নূর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নূর মোহাম্মদ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি ক্ষেতের মধ্যে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ছুরিটি উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




















