প্রতিনিধি ১৯ মে ২০২৬ , ১:০৮:০০ প্রিন্ট সংস্করণ
নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।
টানা ৬ ষষ্ঠ দিন সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলায় বন্ধ রয়েছে প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম। তবে মূল ফটকে কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল থাকায় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছেন কর্মকর্তা, কর্মচারীরা।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, নতুন ভিসির নিয়োগ বাতিলসহ তিন দফা দাবিতে তাদের আন্দোলন চলবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে দ্বিতীয় দিনে ডুয়েট ব্লকেড কর্মসূচি ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। তবে সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ব্লকেড কর্মসূচির সমর্থনে শিক্ষার্থীদের দেখা যায়নি। গতকাল সদর থানায় ২৫০ জন অজ্ঞাত আসামি করে মামলা হওয়ায় অনেকেই গ্রেপ্তার আতঙ্কে রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালাবন্ধ থাকলেও খোলা রয়েছে পকেট গেট। সকাল থেকে কিছু শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা -কর্মচারীরা ক্যাম্পসে প্রবেশ করেছেন। মূল ফটকের সামনে জ্বালিয়ে দেওয়া মোটরসাইকেল অংশ বিশেষ এখনও পড়ে রয়েছে। ফটকের সামনে বিভিন্ন আসবাবপত্র ফেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির কারণে বন্ধ রয়েছে প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক ও একাডেমিক কার্যক্রম। এতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের ভিসি হিসেবে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হলে আন্দোলন শুরু হয়। বৃহস্পতিবারে শিক্ষার্থীরা ডুয়েটের মধ্যে বিক্ষোভ করেন। এক পর্যায়ে তারা জয়দেবপুর শিমুলতলী রাস্তা অবরোধ করে। শুক্রবারেও তাদের আন্দোলন চলমান থাকে। শনিবারে তারা ভিসিকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে ‘লাল কার্ড কর্মসূচি’র ব্যানারে মূল ফটকে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। রোববার শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে দিনভর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশ শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ডুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর ডুয়েটের অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই নিয়োগ দিতে হবে।
তাদের মতে, ডুয়েটের শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা, একাডেমিক কাঠামো ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা ও ধারণা তুলনামূলক বেশি। ফলে ডুয়েটের উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ শিক্ষক থেকে উপাচার্য নিয়োগ অধিক কার্যকর হবে।
তবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে শিবিরের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে। এখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা নেই।




















