প্রতিনিধি ২০ মে ২০২৬ , ১২:৩২:০২ প্রিন্ট সংস্করণ
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাসপাতালের এক নম্বর আইসিইউতে থাকা রোগীদের সরানোর সময়একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আগুন থেকে বাঁচতে গিয়ে দুই নার্সসহ পাঁচজন আহত হন।
আজ বুধবার ভোর ৬টার দিকে হাসপাতালের প্রধান ভবনের তৃতীয় তলায় পুরাতন আইসিইউ ইউনিটের পাশের একটি স্টোররুমে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট। আহতরা হলেন- হাসপাতালের স্টাফ সাইদুর রহমান (৫০), সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরিন, দিপালী ও শারমিন এবং ফায়ার সার্ভিস সদস্য তৌহিদ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাসপাতালের এক নম্বর আইসিইউতে থাকা ১৫ জন রোগীকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় একজন রোগীর মৃত্যু হয়। এ ছাড়া আগুন থেকে বাঁচতে গিয়ে দুইজন নার্সসহ পাঁচজন আহত হন।
হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ডা. দিলীপ কুমার বলেন, পুরোনো আইসিইউ ভবনের পাশের একটি কক্ষে শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগে। সেখানে পুরোনো কাপড় ও কিছু সরঞ্জাম রাখা ছিল। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েকটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও পুরোনো এসি বিস্ফোরিত হয়। এতে দেয়ালের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুরো এলাকায় ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আইসিইউতে থাকা রোগীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজন রোগী আগুন লাগার আগেই মারা যান এবং আরেকজন রোগী স্থানান্তরের সময় মারা যান।
ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সরকার মাসুদ আহমেদ জানান, সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে বয়রা স্টেশন থেকে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরে আরও ইউনিট যোগ দেয়। মোট ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
তিনি বলেন, চারতলা ভবনের তৃতীয় তলার স্টোররুমে আগুন লাগে। প্রথমদিকে কিছু প্রতিবন্ধকতা ছিল। সব গেটে তালা দেওয়া ছিল, সেগুলো ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়েছে। ব্যালকনি থেকে ৪ থেকে ৫ জনকে উদ্ধার করা হয়। প্রায় ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ৫৫ মিনিটের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়। ধারণা করা হচ্ছে- বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. হোসেন আলী বলেন, শর্ট সার্কিট অথবা এসি বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।




















